ট্রেবল জয়ের পরও কিংসে বিক্ষোভ

দুবার লিড নিয়েও শেষে হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে মোহামেডানকে। এক দোরিয়েলতন গোমেজেই ফেড কাপ শিরোপা স্বপ্ন শেষ সাদা-কালোদের। অসাধারণ হ্যাটট্রিকে বসুন্ধরা কিংসকে মৌসুমের তৃতীয় শিরোপা এনে দেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। ৩-২ গোলের জয়ে পঞ্চমবারের মতো ফেড কাপ জিতল কিংস। ২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রথম ট্রেবল জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছিল তারা। এক মৌসুম পর ফের এই কীর্তি গড়ে কিংস আরেকবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। অথচ একটা সময় মনে হয়েছিল অর্থসংকটে এবার তাদের মৌসুম কাটবে বড্ড সাদামাটা।
গতকাল বুধবার কিংস অ্যারেনায় দোরিয়েলতন ম্যাজিকের আগে এবং পরে বেশ নাটকই হয়েছে। ওয়ার্মআপের জন্য মাঠে আসার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর মাঠে আসেন লিগ শিরোপা জেতা দলটির ফুটবলাররা। ফেড কাপ ফাইনাল জেতার পরও আরেক দফা হতাশার প্রকাশ দেখা গেছে খেলোয়াড়দের মধ্যে। হাসি নেই, শূন্য দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ বসে রইলেন তারা ডাগআউটে। এরপর একে একে চলে গেলেন সাজঘরে। যাওয়ার আগে একজন ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন— ‘সবাই তো বিদেশিদের বাহবা দেয়। এবার দেখলেন তো মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে আমরা দেশিরাই ট্রেবল জেতালাম দলকে। এবার ক্লাব কর্তারা শিরোপা নিয়ে উল্লাস করুক, আর আমাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বুঝিয়ে দিক।’ খেলোয়াড়রা চ্যাম্পিয়নশিপের মেডেলও নেননি।
শুরুতে অনেক বুঝিয়ে তাদের মাঠে নামিয়েছিলেন ক্লাব কর্তারা। দেরিতে শুরু ম্যাচে অবশ্য বাইরের হতাশা দূরেই রাখলেন দোরি-তপু-রাকিবরা। পাগলাটে ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও ঠিকই ক্লাবকে এনে দিলেন শিরোপা।
কিংস অ্যারেনায় এক দিন পর শুরু হওয়া ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মোজাফফরভের অসাধারণ সেট-পিচে লিড নেয় মোহামেডান। বক্সের প্রায় ২০ গজ দূর থেকে উজবেক প্লেমেকারের ফ্রি-কিক কিংস কিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণকে বোকা বানিয়ে দূরের পোস্টে জায়গা করে নেয়। ম্যাচের ৯ মিনিটে দোরিয়েলতনের পেনাল্টি সমতায় ফেরায় কিংসকে। আহমেদ ফাহিমের পাস ধরে বক্সে বল নিয়ে ঢুকেছিলেন রাকিব। তাকে ফাউল করেন জুয়েল মিয়া। রেফারি জসিম আক্তার বাজান পেনাল্টির বাঁশি। দোরিয়েলতন সহজেই সুজনকে পরাস্ত করেন।
২২ মিনিটে বক্সের ভেতরে সাইফুলকে কনুই মেরে ফেলে দেন কিংস অধিনায়ক তপু বর্মণ। সঙ্গে সঙ্গে বাজে পেনাল্টির বাঁশি। তবে মোজাফফরভ এবার এগিয়ে নিতে পারেননি মোহামেডানকে।
তবে ৩৫ মিনিটে মোহামেডানের লিড পুনরুদ্ধার করেন সৌরভ দেওয়ান। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বাইলাইন থেকে কাটব্যাক দেন জাহিদ হোসেন শান্ত। সাইফুল ডামি করে বল ছেড়ে দিলে সৌরভ দারুণ ফিনিশে গোল করেন। ৪ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ অবিশ্বাস্যভাবে নষ্ট করেন সৌরভ। ডানদিক থেকে আরিফের মাপা ক্রসে হাত ছোঁয়া দূরত্ব থেকে সৌরভের এলোমেলো শট বার উঁচিয়ে বাইরে যায়।
তবে বিরতি থেকে ফিরেই তাদের সমতা এনে দেন দোরিয়েলতন। ৫১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে রাকিব বল বাড়িয়েছিলেন। তা মোহামেডানের একজনের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করায় বল পান দোরিয়েলতন। সুজনকে একা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ের প্লেসিংয়ে দ্বিতীয় গোল করেন ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার।
৭৪ মিনিটে ফাহিমের বাঁদিক থেকে দারুণ সাপ্লাই অল্পের জন্য নাগাল পাননি শাহরিয়ার ইমন। লিড নেওয়ার ভালো সুযোগ নষ্ট হয় কিংসের। ৭৯ মিনিটে অবশ্য আরেকটি দারুণ ফিনিশে নিজের হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি কিংসকে প্রথমবারের মতো এগিয়ে নেন দোরিয়েলতন। মাঝমাঠ থেকে শাহরিয়ার ইমন আলতো পাস বাড়ান তাকে। বল নিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে বক্সে সুজনকে একা পেয়ে যান। মার্কারের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারানোর আগে নিখুঁত টোকায় বল জালে জড়িয়েই জার্সি খুলে বুনো উদযাপনে মাতেন ব্রাজিলিয়ান গোলমেশিন। টুর্নামেন্টে তার ১২তম গোলই কিংসকে দেয় হ্যাটট্রিক ফেড কাপের স্বাদ। দোরির এই গোলে মোহামেডানের ডিফেন্সের দায় অনেক। অলআউট খেলতে গিয়ে নিজেদের রক্ষণ একেবারেই ফাঁকা করে দিয়েছিলেন ডিফেন্ডাররা। বাকি সময় হতাশায় স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারেনি মোহামেডান। তাই চাপা যন্ত্রণা নিয়েও চার দিন বাদে ফের শিরোপার আনন্দে মাতেন কিংসের ফুটবলাররা।






