ভাঙা আঙুলেও এমির সাতে সাত

ইনজুরি, একের পর এক ক্লাবে ধারে খেলতে যাওয়া, প্রতিপক্ষের কটাক্ষ; এমি মার্তিনেস ছাড়তে বসেছিলেন ফুটবল। আট বছরেই যখন থামতে বসেছিল পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার, তখনই যেন ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠেন এমি। ২০২০ থেকে ২০২৬, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ফাইনাল মানেই যেন তার জয়জয়কার। গত রাতে ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগ জেতা ‘বাজপাখি’ নিজের সাত ফাইনালের একটিতেও হারেননি!
এমির প্রথম ফাইনাল ২০২০ সালে। আর্সেনালের হয়ে চেলসিকে হারিয়ে সেবার এফএ কাপ জিতেছিল গানাররা। সেই শুরু। এরপর আরও ছয়টি ফাইনালে মাঠে নামলেও কখনোই হারের মুখ দেখেননি এ আর্জেন্টাইন কিপার।
ওই মৌসুমেই লিভারপুলকে হারিয়ে কমিউনিটি শিল্ড জেতে আর্সেনাল। ট্রফিজয়ী সেই দলে ছিলেন এমিও।
আর্জেন্টিনার হয়ে এমির প্রথম সাফল্য ২০২১ সালে। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্ট জুড়েই দারুণ ফর্মে ছিলেন এমি। সেবার আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের প্রথম বড় শিরোপা জয়ের স্বাদ পান লিওনেল মেসি।
২০২২ সালে ফিনালিসিমায় ইতালিকে হারিয়ে ট্রফি জেতে আর্জেন্টিনা। সে বছরই আসে এমির ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত। অবিশ্বাস্য পারফর্ম করে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। ফাইনালে টাইব্রেকারে এমির দারুণ কিছু সেভেই ৩৬ বছর পর সোনালি ট্রফি ঘরে তোলে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা।
২০২৪ সালে কলম্বিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় কোপা জেতে মেসির দল। সেই টুর্নামেন্টেও এমি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
গত রাতে ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে মাঠে নেমেছিলেন এমি। ভাঙা আঙুল নিয়েই দলকে শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে সাত ফাইনালের সাতটিতেই জিতেছেন তিনি।
শিরোপা জিতলেও এমির ভাঙা আঙুল খানিকটা ভাবিয়ে তুলেছে আর্জেন্টিনাকে। বাজপাখি অবশ্য জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি। তবে বিশ্বকাপের যেখানে আর মাত্র ২০ দিন বাকি, সেখানে দলের মূল তারকা কিপারের এমন চোট নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলেছে লিওনেল স্কালোনিকে।




