বিশ্বকাপ নিয়ে ভ্রমণ সতর্কতা

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এলো নতুন এক শঙ্কা। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের আর দুই মাসও বাকি নেই। অনেকে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সব পরিকল্পনাও সেরে ফেলেছেন। তবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এলো নতুন এক শঙ্কা। টুর্নামেন্ট চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সতর্ক করল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং দেশটিতে বাড়তে থাকা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ও সহিংসতার কারণ দেখিয়ে এই বিশেষ ‘ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন মানবাধিকার সংগঠন যৌথভাবে বিশ্বকাপকে ঘিরে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। ফিফা কিংবা আয়োজক শহরগুলোর পক্ষ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো শক্ত পদক্ষেপ বা সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এজন্যই তারা এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিশ্বকাপে খেলা দেখতে আসা দর্শক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অযৌক্তিক বাধার মুখে পড়তে পারেন। এমনকি তাদের ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের তল্লাশি চালানো হতে পারে।
‘অমানবিক’ পরিস্থিতি তৈরি করে সন্দেহভাজনদের আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও মিনিয়াপোলিসের মতো শহরগুলোতে সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে বর্ণবাদী আচরণ এবং বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
এই ভ্রমণ সতর্কবার্তাকে অবশ্য ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জিওফ ফ্রিম্যান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে এমন দাবি মোটেই সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়নি। অর্থনৈতিক ক্ষতির উদ্দেশ্যে এটি রাজনৈতিক কৌশল। গত বছরেও দেশটিতে প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক এসেছেন।’
উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন। ৪৮ দলের ঐতিহাসিক এই টুর্নামেন্টের ১০৪ ম্যাচের ৭৮টিই হবে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি ভেন্যুতে।

