যেকোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি
- বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিক বিদায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে। পাঁচ কিংবা সাত সদস্যের সেই আংশিক কমিটি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের টেবিলে। এরই মধ্যে সংগঠনের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়েছেন ছাত্রদলের এই সাংগঠনিক অভিভাবক।
রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আবু আফসান মো. ইয়াহইয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ওই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে দুই বছর মেয়াদের ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবি জোরালো হয়েছে। পদপ্রত্যাশী নেতারাও লবিং-তদবির অব্যাহত রেখেছেন।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যার পর তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎটি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত।
সূত্রমতে, সাক্ষাতে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে ছাত্রদলের ভূমিকা ও ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের তিনি জানিয়েছেন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। তাদের পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সংগঠনে পদায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় ছাত্রদলের বিদায়ী নেতারাও সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। দল যখনই রাজপথের বা সাংগঠনিক কোনো দায়িত্ব অর্পণ করবে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।
এদিকে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সেখানে তিনি লেখেন, 'আলহামদুলিল্লাহ! মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট লাখো কোটি শুকরিয়া, অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।'
‘রাকিব-নাছির কমিটির মূল সফলতা হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকরী বীরোচিত ভূমিকা পালন। ৫ আগস্ট, ২০২৪ পরবর্তী বাস্তবতায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত মবকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ধারাবাহিক বুলিংকে উপেক্ষা করে নেতৃত্ব প্রদান করতে হয়েছে’, যোগ করলেন রাকিব।
ছাত্রদলের নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণা হতে যাচ্ছে বলেও ফেসবুক পোস্টের শেষদিকে ইঙ্গিত দেন সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন, সেই প্রত্যাশা রইল।’
এদিকে যেকোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার খবরে শেষ মুহূর্তের লবিং-তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। তারা সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
তবে বিএনপির দায়িত্বশীল একজন নেতা জানিয়েছেন, নতুন কমিটির শীর্ষ পদে যারা সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছেন, তাদের বিষয়ে তারেক রহমান বিভিন্ন মাধ্যমে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি তিনি নিজেই তদারক করছেন। ফলে ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটি সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটমুক্ত হবে বলে ওই নেতা মনে করেন। তবে কোন সেশন থেকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রদলের দুই শীর্ষ পদের আলোচনায় রয়েছেন ২০০৮-০৯ সেশন থেকে সংগঠনটির বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, খোরশেদ আলম সোহেল, সাফি ইসলাম ও এইচ এম আবু জাফর। এখানে সেশন বলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সেশন বোঝানো হয়েছে।
এ ছাড়া ২০০৯-১০ সেশন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, ফারুক আহমেদ, মোস্তাফিজ ইসলাম রুবেল, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরীফ প্রধান শুভ; ২০১০-১১ সেশন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তরিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ ও সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হতে চান।
শীর্ষ দুই পদের জন্য ২০১১-১২ সেশন থেকে সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম রনি, তারেক হাসান মামুন, ইব্রাহিম খলিল, রাজু আহমেদ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
আরও জানা গেছে, ২০১২-১৩ সেশন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি সৈকত মোর্শেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমনও সংগঠনের শীর্ষ পদ পেতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছেন।
ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া (সেশন ২০০৬-০৭) এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল মালুম (সেশন ২০০৭-০৮)ও সংগঠনের নতুন কমিটির শীর্ষ দুই পদের আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান আবিদ (সেশন ২০১৫-১৬)ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আবিদ ছিলেন ছাত্রদলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী।








