প্রবাসী-স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে বাংলাদেশ কোচের ভাবনা

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে এখন ঢল নেমেছে প্রবাসী খেলোয়াড়দের। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, সুলিভান ভাইদের দেখে নিজেদের খেলার ভিডিও পাঠিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন শত শত প্রবাসী। এটাকে ইতিবাচক বললেও প্রবাসী ও স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে নিজের ভাবনার কথা ‘দ্য গার্ডিয়ানকে জানালেন বাংলাদেশি কোচ থমাস ডুলি।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা ডুলি বললেন,‘যে কেউ ভালো কোনো ফ্রি-কিকের ছবি পাঠালেই সে ভালো খেলোয়াড় হয়ে যায় না। কিংবা আমাদের সাহায্য করতে পারে না। আমাদের দেশেও ভালো খেলোয়াড় রয়েছে যাদের আমরা সামর্থ্যের মধ্যে কাজে লাগাতে পারি।’
তিনি আরও যোগ করেন,‘আমরা কোনো খেলোয়াড়কে উড়িয়ে আনার পেছনে ২,০০০ বা ৩,০০০ ডলার খরচ করব আর সে বেঞ্চে বসে থাকবে—এমনটা হতে দেওয়া যায় না। কাজেই যারা আসবে, তাদের সত্যিই দলকে সাহায্য করার মতো মান থাকতে হবে। তা না হলে সেই অর্থ দিয়ে স্থানীয় খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে রেখে দুই সপ্তাহ দিনে দুবার করে অনুশীলন করানো অনেক ভালো। আর আপনারা নিজেরাই দেখবেন, তাতে তাদের খেলায় অনেক উন্নতি হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮০ নম্বরের ঘরে। বাংলাদেশকে ১৫০ নম্বরে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন ডুলি। অনূর্ধ্ব-২০ দল ট্রফি জয়ের সাত সপ্তাহ পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিজের কোচিং জীবনের বেশিরভাগ সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কাটানো ডুলি আগে থেকেই শুনেছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল নিয়ে একটি ‘পাগল বা উন্মাদ দেশ’, যাদেরকে তিনি এখন নতুন বিশ্বকাপ চক্রের জন্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
গার্ডিয়ানকে ডুলি বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ যারা শুধু সমর্থক হতেই জানি। আমাদের এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের এমন একটি দেশ হতে হবে যারা বাস্তবে ফুটবল খেলে। আমাদের ঠিক এটাই হওয়া প্রয়োজন এবং তা করার সঠিক পথ খুঁজে বের করতে হবে।’
ফিলিপাইনে নিজের এশীয় কোচিং শুরুর সময় বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক ভক্তের যে অনীহা ছিল, তা তিনি পাত্তাই দেননি। তাই বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান সংস্কৃতি দেখে তিনি উৎসাহিত, বিশেষ করে লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর নেতৃত্ব ও বিনয়ী মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
ডুলি বলেন, ‘হামজা আসায় সবাই খুশি হয়েছিল এবং খেলোয়াড়রা বুঝতে পারছে যে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলাররা তাদের সাহায্য করতে পারে, কারণ তাদের দেখে শেখার সুযোগ আছে। তাদের মনোভাব কেমন, তারা কাজের প্রতি কতটা একাগ্রতা নিয়ে আসেন, সবকিছু দেখেই স্থানীয়রা তাদের অনুসরণ করতে পারে, বুঝতে পারে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।’






