ভারত ও মালদ্বীপের ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি

সংগৃহীত ছবি
চলছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এ সময়টায় সারা বিশ্বেই ফুটবল কার্যক্রম থমকে যায়। সবার দৃষ্টি থাকে বিশ্বকাপে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনেরও খেলাধুলা কেন্দ্রিক যাবতীয় কর্মকান্ড বন্ধ। তবে এর মধ্যেই তাদের দুটি ঘটনায় গঠন করতে হয়েছে পৃথক দুই তদন্ত কমিটি। ভারতে নারী সাফ চলাকালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ বেপরোয়া কর্মকান্ডে আলোচনায় চলে এসেছিলেন। বাইরে থেকে টিম হোটেলে মদ নিয়ে ঢুকতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছিলেন খালিদ। এ নিয়ে আগামীর সময় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ফুটবল অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বাফুফেও বিষয়টি গুরুত্বে এনে গড়েছে তিন সদস্যের কমিটি।
এছাড়া মালদ্বীপে চার জাতি আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল মালদ্বীপ জাতীয় দলের ফুটবলারদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়েছিলেন। পরে যা বড় আকার ধারণ করেছিল। দলের ফুটবলার ও কর্মকর্তাদের বিশৃঙ্ক্ষলায় জড়ানোর কারণ উদঘাটনেও বাফুফে তদন্ত কমিটিতে দায়িত্ব দিয়েছে।
ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হয় নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশ দল গিয়েছিল হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে। তবে ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের কাছে হারতে হয় তাদের। দলের ব্যর্থতার কারণ জানতে চায় বাফুফে। এই সফরে দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন বাফুফের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ। থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের অনুশীলন শেষ করে দল সরাসরি ভারতের গোয়ায় গিয়েছিল। সে সময় সঙ্গে করে ডিউটি ফ্রি থেকে দুই বোতল মদ কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন খালিদ মাহমুদ।
পরে গোয়ার বাইরের লিকার শপ থেকে আবার মদ কিনে হোটেলে প্রবেশের সময় বাধার মুখে পড়েন তিনি। হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী, বাইরের মদ নিয়ে প্রবেশ করা নিষেধ। সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে খালিদ মদ নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় বেধে যায় তার। অভিযোগ রয়েছে, টিম হোটেলের নির্দিষ্ট সমুদ্র সৈকতের উন্মুক্ত পরিবেশে মদ্যপানও করেন তিনি। এ সব নিয়ে সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ জানিয়ে বাফুফেকে চিঠি দিয়েছিল।
পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে চলে আসলে, সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টাল এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। আয়োজক ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, টিম হোটেসেল সুযোগ-সুবিধা, বিশেষ করে মেডিক্যাল রুম বরাদ্দ না দেওয়া নিয়ে সাফের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয় সাফের চিঠিতে। সেখানে খালিদের বেপরোয়া আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। দলের ব্যর্থতা কারণ অনুসন্ধান ও খালিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বাফুফে নির্বাহী সদস্য কামরুল ইসলাম হিলটনকে প্রধান করে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির সদস্য সচিব বাফুফের লিগ্যাল অফিসার এবং অপর সদস্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা।
এদিকে মালদ্বীপের লিগে রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল গন্ডগোল বেধে গিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল এবং মালদ্বীপ দলের মধ্যে। এছাড়া আসরের তিন ম্যাচেই ড্র করে ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হয়েছিল মারুফুল হকের দলকে। সন্তোষজনক ফলাফল ও কয়েকজন খেলোয়াড়ের মারমুখী আচরণ সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারে ভাবমুর্তী নষ্ট হয় দেশের। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরিকে চেয়ারম্যান করে গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি।
দেশের বাইরের দু’টি ঘটনায় সংগঠিত হওয়ায় দুই কমিটিতে একটু বেশি সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। দু’সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।


