নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
বেপরোয়া ম্যানেজারকে নিয়ে অভিযোগ বাফুফের কাছে

বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ
হ্যাটট্রিক সাফ জয়ের মিশনে এখন ভারতের গোয়ায় রয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আজ রোববার তারা গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে। এর মধ্যেই টিম হোটেলে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ সমালোচিত হচ্ছেন বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ডে।
টিম হোটেলে মদের বোতল নিয়ে প্রবেশের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েছিলেন খালিদ। এ নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তর্কেও জড়ান। মেডিকেল রুম নিয়েও হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এসব কিছু নিয়ে কয়েকদিন আগে বাফুফের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টাল।
থাইল্যান্ডে দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প সেরে ব্যাংকক থেকে সরাসরি গোয়া যায় বাংলাদেশ দল। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ব্যাংককের ডিউটি ফ্রি দোকান থেকে কেনা দুই বোতল মদ নিয়ে গোয়ার প্ল্যানেট হলিউড বিচ রিসোর্টে চেক-ইনে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে পরেরবার বিপত্তি বাধে, যখন তিনি বাইরের দোকান থেকে মদ কিনে হোটেলে প্রবেশ করতে যান। হোটেলের নিয়ম ছিল, বাইরের মদ ভেতরে প্রবেশ করানো যাবে না। এ নিয়ে হোটেল কর্ত্তৃপক্ষের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান বাংলাদেশ ম্যানেজার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, 'ওই ঘটনার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ঘটনা উনি (খালিদ) ঘটিয়েছেন। রিসোর্টে বাংলাদেশ দলের জন্য মেডিকেল রুমের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। হোটেল কর্ত্তৃপক্ষ একটা রুম বরাদ্দও দিয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর সেই কক্ষের ডিজিটাল চাবি ব্লক করে দিলে হোটেলের লোকজনের সঙ্গে ভীষণ দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া রিসোর্ট লাগোয়া বিচে বসে প্রকাশ্যে মদ্যপান করেন, যেখানে সাফের বেশ ক'জন কর্মকর্তা ও ম্যাচ কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।’
বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার সাফের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, 'ঈদের এক বা দু'দিন আগে আমরা এরকম একটা চিঠি পেয়েছি এবং বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছি। শীর্ষ পর্যায়েও জানানো হয়েছে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সতর্কও করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।' তুষার একই সঙ্গে সাফের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, 'মেডিকেল রুমের বিষয়টি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে ম্যানেজার যখন লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, তার জবাবে সাফ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ আমাদের জানিয়েছে। আমাদের কথা হলো, যখন এরকম ঘটনা ঘটেছে, তখন কেন সাফ চুপ থেকেছে। তখনই তাদের উচিত ছিল আমাদের জানানো।'
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলারের কাছে। তিনি আগামীর সময়কে বলেছেন, 'এটা সম্পূর্ণই (নওমির) খালিদের ব্যাপার, এর সঙ্গে আমার কোন যোগসূত্র নেই। তবে শুনেছি তার (খালিদের) বড় কোন সমস্যা হচ্ছে। আর এখানে আমি কাজ করতে এসেছি, মদ্যপান করতে নয়।'
খালিদ মাহমুদ বাফুফেতে দীর্ঘদিন কর্মরত আছেন মিডিয়া বিভাগে । তবে নারী দলের শেষ তিনটি সফরে তাকে দেওয়া হয় ম্যানেজারের দায়িত্ব। মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ, এপ্রিলে থাইল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ ও সর্বশেষ সাফ চ্যম্পিয়নশিপে ম্যানেজার দায়িত্বে আছেন তিনি।
অর্থাৎ যার দায়িত্ব দলের সবকিছু দেখভাল করে রাখা, সেই খালিদই কিনা নেতিবাচক নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করেছেন।






