বসুন্ধরার ঘরে হানা দিয়েছে মোহামেডান

সংগৃহীত ছবি
শিরোপায় চোখ রেখে শক্তিশালী দল গড়ার পথে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। গত মৌসুমে যাদের কাছে লিগ শিরোপা হারিয়েছিল সাদা-কালোরা, সেই বসুন্ধরা কিংসের ঘরে হানা দিয়ে শক্তি বাড়িয়েছে তারা। প্রথম প্রস্থে বসুন্ধরার ছয় ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে মোহামেডান। আরও দু-একজনের সঙ্গে চলছে জোর আলোচনা।
গত মৌসুমে ট্রেবলজয়ী বসুন্ধরার অবস্থা ভীষণ নাজুক। ঘাড়ের ওপর ঝুলছে ফিফার ট্রান্সফার ব্যান। বেতন নিয়ে ফিফায় জমা পড়েছিল ১১টি পৃথক অভিযোগ। এর সবই বিদেশি ফুটবলার ও কোচদের। তাই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বসুন্ধরাকে। অভিযোগকারীদের পাওনা সুদে-আসলে পরিশোধ করলেই উঠবে নিষেধাজ্ঞা। এরপর অংশ নিতে পারবে দলবদলে।
শুধু তাই নয়, গত দুই মৌসুমে স্থানীয় খেলোয়াড়দের বেতনের বড় অংশ দিতে পারেনি বসুন্ধরা। অথচ তাদের কৃতিত্বেই গত মৌসুমে ট্রেবল শিরোপা জিতেছিল ক্লাবটি। কর্তাদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও বকেয়া মিলছে না ফুটবলারদের। অনেককে ডেকে অবশ্য শীর্ষ কর্তারা দিয়েছেন সমাধানের আশ্বাস। এতে কতদিন ফুটবলাররা বিশ্বাস রাখবেন, এটাই দেখার। প্রথমত অনেকেরই গত দুই মৌসুমের বেতনের বড় অংশ বকেয়া। সেটা হাতে পেলেই পরের মৌসুমের জন্য চুক্তির আলোচনা এগোবে। তার আগে ক্লাবকে ফিফার নিষেধাজ্ঞামুক্ত হতে হবে।
তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন, মোহাম্মদ হৃদয়, সোহেল রানা সিনিয়রের মতো তারকারা তাকিয়ে ক্লাব কর্তাদের দিকে। শনিবার একটা সুরাহা হতে পারে জানা গেছে। সেটিও যদি না হয়, বাধ্য হয়েই অন্য ঠিকানা খুঁজতে হবে বড় অঙ্কের বেতনে এতদিন বসুন্ধরায় খেলা তারকাদের।
তপুদের মতো অবশ্য অত ধৈর্য দেখাননি সাদউদ্দিন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, শাহরিয়ার ইমন, সোহেল রানা জুনিয়র ও রিমন হোসেন। মোহামেডানের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেছেন তারা। মজিবুর রহমান জনি, আনিসুর রহমান জিকো, তাজউদ্দিনদের নামও আছে আলোচনায়।
মতিঝিলপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে সম্প্রতি। নতুন কর্তারা সেরা ফুটবল দল গড়ার শুরুর প্রতিশ্রুতি পূরণে দলবদলের বাজারে সবচেয়ে সক্রিয়। দল গোছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমিরুল ইসলাম বাবুকে। পছন্দের তালিকায় থাকা বসুন্ধরার ফুটবলারদের বেশিরভাগকে নেওয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা, ‘আমরা একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করে নেমেছিলাম। বসুন্ধরা কিংসের কয়েকজনের দিকে নজর ছিল। যাদের বেশিরভাগ এর মধ্যেই চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। বসুন্ধরায় গত মৌসুমে খেলা নাইজেরিয়ান ইমানুয়েল সানডের সঙ্গেও আলোচনা শেষ দিকে। এ ছাড়া পুরনো বিদেশিদের মধ্যে গত মৌসুমের অধিনায়ক মোজাফফরভকে আমরা নিশ্চিত করেছি। আরও দুই-তিনজন বিদেশি ও সাফ কোটার ফুটবলারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ছাড়া রহমতগঞ্জ ও বাংলাদেশ পুলিশ থেকেও কিছু খেলোয়াড় আসবে। গত বছরের দলটির ১৮ জনকে আমরা এবারও ধরে রেখেছি। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই দল গড়তে যাচ্ছি।’
চ্যাম্পিয়ন দল পরিচালনায় প্রয়োজন সে মানের একজন কোচ। আমিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্লাব জোর চেষ্টা করছে অতীতে কাজ করে যাওয়া ইংলিশ কোচ শন লিনকে ফেরাতে, ‘অতীতে লিন আমাদের দলে কাজ করেছেন। এ দেশের ফুটবল সম্পর্কে ভালো জানা-বোঝা আছে। আশা করছি, তাকে আনতে পারলে আমাদের আর কোনো সমস্যা থাকবে না।’
১০ আগস্ট থেকে প্রাক-মৌসুম অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করবে মোহামেডান। যে ক্যাম্পে যোগ দিতে মুখিয়ে আছেন সাদউদ্দিন। আবাহনী দিয়ে শীর্ষ ফুটবল শুরু করা সাদ এরপর খেলেছেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে। সেখান থেকে টানা চার মৌসুম বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলে এবার মোহামেডানে নাম লিখিয়েছেন। বড় দলে খেলার চক্রটা তাতে পূরণ হতে যাচ্ছে সাদের, ‘খুব রোমাঞ্চিত। ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের হয়ে খেলব। এটা একটা স্বপ্ন ছিল। আবাহনী, শেখ রাসেল, বসুন্ধরার পর এবার মোহামেডান। বড় ক্লাবগুলোতে খেলার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। যে আশা নিয়ে মোহামেডান আমাকে নিয়েছে, চেষ্টা থাকবে সেটা পূরণের।’
বিদায়বেলায় অবশ্য বসুন্ধরার কাছ থেকে সব পাওনা বুঝে পাননি সাদ, যা নিয়ে একটু চিন্তিতই তিনি, ‘চার মৌসুম খেলেছি। ক্লাবটির ভালো-মন্দ দুটি দিকই দেখা হয়ে গেছে। গত মৌসুমের প্রায় পুরো বেতনই বকেয়া আছে। গত মৌসুমে যা পেয়েছি, সেটা ছিল তার আগের মৌসুমের বকেয়ার অংশ। গত মৌসুমের আগের মৌসুমের বেতনও কিছু পাব বসুন্ধরার কাছ থেকে। আশা করব, ক্লাবটি আমাদের বকেয়া পরিশোধের দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।’
বিধিনিষেধ ও আর্থিক সংকটের কারণে দলবদলের বাজারে প্রকাশ্যে আসছে না বসুন্ধরা কিংস। একই সমস্যা আবাহনীরও। তাদেরও আছে ফিফার নিষেধাজ্ঞা। তবে বসুন্ধরার মতো নয়। ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা চেষ্টা করছে ফিফায় থাকা তিন অভিযোগের সমাধান খুঁজে দল গড়তে। পুরনোদের ধরে রাখার পাশাপাশি বসুন্ধরার কিছু ফুটবলারে নজর রাখছে তারাও। তবে পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় মোহামেডানের মতো কাউকেই চূড়ান্ত করতে পারেনি ধানমন্ডি জায়ান্টরা।






