‘রিয়ালের’ দিওমান্দে হবেন আইভরি কোস্টের প্রধানমন্ত্রী!

সংগৃহীত ছবি
রিয়াল মাদ্রিদে আসাটা এখন সময়ের অপেক্ষা ইয়ান দিওমান্দের। ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার লাইপজিগ ছেড়ে রিয়ালের মতো বড় ক্লাবে কতটা কী করতে পারবেন, সেটা বলবে সময়। তবে এত কম বয়সী এই ফুটবলারের মধ্যে এখনই আইভরি কোস্টের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গুণ খুঁজে পেয়েছেন 'এএস ফ্রেনজি'-এর মালিক ওয়েইন ডোরম্যানের। আমেরিকান নিচের সারির লিগে খেলার সময় কিশোর দিওমান্দেকে গাড়িতে করে অনুশীলনে নিয়ে যেতেন ডোরম্যান। তার মতে, দিওমান্দের এমন ব্যক্তিত্ব রয়েছে, যা দিয়ে সে যেকোনো কিছু জয় করে নিতে পারে।
১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার আরবি লাইপজিগ থেকে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি ট্রান্সফার ফিতে রিয়ালে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। জীবনের এই জায়গায় পৌঁছাতে দিওমান্দেকে এর চেয়েও অনেক কঠিন পরীক্ষায় জিতে আসতে হয়েছে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে একাকী আইভরি কোস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান দিওমান্দে। এরপর তিনি হারিয়েছেন তার প্রিয় বোন রোক্সানকে, যিনি কিশোরী বয়সেই এক পার্টিতে বিষাক্ত পানীয় পান করে মারা যান।
দিওমান্দের জীবনের সেই দুঃসময়ে অভিভাবক হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ডোরম্যান। তিনি মনে করেন, পরিবারের সান্নিধ্য হারানোর কষ্ট আর স্বজন হারানোর শোকই আজ এই রাতারাতি তারকাখ্যাতি সামলানোর মানসিক শক্তি জুগিয়েছে তাকে।
ডোরম্যান একটি ইংলিশ দৈনিকে বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে সে একদিন তার দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। তার ব্যক্তিত্ব ও ধরনটাই তেমন। ওর আশপাশে থাকলে বা কথা শুনলেই বোঝা যায়—বয়সের তুলনায় সে কতটা পরিপক্ব। সে নিজেকে যেভাবে পরিচালনা করে, তাতে সে যে কাজেই হাত দিক না কেন, সফল হবেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পরিবার থেকে দূরে থাকা আর একা একা চলতে শেখাটা তাকে নিশ্চিতভাবেই সাহায্য করেছে। সে তার পরিবার এবং মায়ের কথা খুব বলত। আমি শুধু তাকে যতটা সম্ভব স্বাচ্ছন্দ্যে রাখার চেষ্টা করেছি এবং অভিভাবক হিসেবে জীবনের আসল অর্থ বোঝাতে চেয়েছি। আমি তার আসল ব্যক্তিত্বটা চিনি। ১৯ বছর বয়সে ভুল হওয়া স্বাভাবিক, তবে সে মাটির মানুষ।’
গত মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১২ গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করার পর বিশ্বকাপে চোখ-ধাঁধানো পারফর্ম করে সবার নজর কাড়েন দিওমান্দে। এরপরই বিশ্বসেরা ক্লাবগুলো তাকে দলে ভেড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু করে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ এমন এক প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে, যা তিনি ফেরাতে পারেননি। এখন 'লস ব্লাঙ্কোস' ও লাইপজিগ ট্রান্সফার ফি নিয়ে দরকষাকষি করছে।
ফ্লোরিডায় আঞ্চলিক ফুটবল খেলার মাত্র দুই বছরের মধ্যে একজন তরুণ ফুটবলারের এই উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য! এর চেয়েও অবাক করা হলো-ক্রিস্টাল প্যালেস, বোর্নমাউথ এবং রেঞ্জার্সের মতো দলগুলো ট্রায়ালের পর তাকে দলে নেয়নি! সেই দিওমান্দে এখন অপেক্ষায় বিশ্বের সবচেয়ে সফল ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার।




