সাফের প্রস্তুতি শুরু
ডুলির আস্থায় মাহি-রোনান, সৌরভ নন
- ২৮ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডের ২৩ জন যোগ দিয়েছেন আবাসিক ক্যাম্পে। তাদের নিয়ে সোমবার শুরু হচ্ছে থমাস ডুলির মাঠের প্রস্তুতি

সাফের আবাসিক ক্যাম্পে ফুটবলাররা
আগেভাগেই হোটেলে চেক-ইন করেছেন মাহি খান। ইংলিশ ফুটবল লিগ সিস্টেমের নবম টায়ারের দল মোলটন এফসির সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলা ১৮ বছরের তরুণকে সাফের প্রাথমিক দলে ডেকেছেন কোচ থমাস ডুলি। এর আগে অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে এএফসি বাছাই খেলা মাহিকে শুরু থেকেই পরখ করার সুযোগ পাচ্ছেন কোচ। তবে রোনান সুলিভানের জন্য তাকে অপেক্ষায় থাকতে হবে। জানা গেছে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর দুদিন আগে, অর্থাৎ ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় আসবেন সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকার। আসছে সাফে এই দুই বংশোদ্ভূত স্ট্রাইকারে দলের গোল না পাওয়ার দীর্ঘরোগ সাড়াতে চাইছেন ডুলি। অথচ গত মৌসুম থেকে ঘরোয়া লিগে নিয়মিত গোল করা সৌরভ দেওয়ান থেকে গেছেন তার ভাবনার বাইরে।
মোহামেডানের জার্সিতে গত মৌসুমটা স্বপ্নের মতো কেটেছিল সৌরভের। লিগে পাঁচ গোল করার পাশাপাশি ফেডারেশন কাপের চার ম্যাচে করেন সাত গোল। এরপর থেকেই ২৫ বছরের তরুণের শুরু জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অপেক্ষা। চলতি মৌসুমেও আছেন ছন্দে, বদলি নেমেও পাচ্ছেন গোলের দেখা। লিগ ও ফেডারেশন কাপ মিলিয়ে করেছেন তিন গোল। অথচ এমন পারফরম্যান্সেও ডুলির গুডবুকে ঠাঁই হয়নি।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হবে মাঠের প্রস্তুতি। তার আগে প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া ২৮ ফুটবলারের মধ্যে ২৩ জন যোগ দিয়েছেন আবাসিক ক্যাম্পে। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গোলের পুরোনো রোগ সাড়াতে রোনান ও মাহিতে আস্থা রাখার কথা জানান কোচ, ‘আমরা যে একজন ৯ নম্বর (স্ট্রাইকার) পজিশনের খেলোয়াড় খুঁজছি, তা সবাই জানে। কারণ আমাদের কোনো খাঁটি ৯ নম্বর খেলোয়াড় নেই। ৯ নম্বর পজিশনে আমরা যাদের চেষ্টা করিয়েছি, সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে যে বিশেষ গুণগুলো থাকা দরকার, সেগুলো তাদের মাঝে দেখিনি। ৯ নম্বরের কাজ হলো বক্সে গোলকিপার কিংবা ডিফেন্ডারের সামনে গিয়ে প্রথম বলটি ছোঁয়া। ঠিক তখন তাকে এমন একজন বিশালদেহী ডিফেন্ডারের বিপক্ষে খেলতে হবে, যে তাকে আটকানোর জন্য হাঁটু, হাত, কনুই—সব ব্যবহার করবে। তাই তাকে এমন হতে হবে যে শরীরের আঘাত পেতে ভয় না পায়। এমন অকুতোভয় ফরোয়ার্ড আমাদের দলে ছিল না। রোনান তাদের একজন এবং খানও। ৯ নম্বর পজিশনের ঘাটতি মেটাতেই তাদের আনা হয়েছে, যা আমাদের জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজন ছিল।’
এমন সুযোগ দেওয়ায় দোষ নেই। তবে সৌরভের ক্ষেত্রে কোচের বিবেচনা এক নয়। এ নিয়ে প্রশ্নে খানিকটা বিরক্তই হলেন কোচ, ‘সে কি এখন আমাদের হয়ে সাফে খেলতে পারবে? না, পারবে না। যেসব খেলোয়াড় আমাদের স্কোয়াডে আছে, তাদের নিয়ে কথা বলতে চাই। বাইরে এমন অনেক খেলোয়াড়ই আছে যারা এই মুহূর্তে আমাদের ভাবনায় নেই। আগে সাফ শেষ হোক। সে যদি এতই ভালো হয়, চমৎকার গোল করে থাকে, ভবিষ্যৎ যখন আসবে আমি তাকে দলে নিতে পারলে খুশিই হব।’
দলে যাদের তিনি রেখেছেন, তাদের ওপর শতভাগ আস্থা রাখছেন কোচ, ‘প্রতিটি খেলোয়াড় যদি তার সেরাটা মাঠে দিতে পারে, তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা সাফ জিততে পারব। আমি সত্যিই মন থেকে বিশ্বাস করি। কারণ ছেলেদের ওপর আমার আস্থা আছে। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময়ও তারা যেন সেই স্বাভাবিক খেলাটাই খেলে। তারা যদি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারে এবং জাতীয় দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, তবে সাফল্য সম্ভব।’
আসিয়ান কাপ চলাকালে খেলোয়াড়দের ডিসিপ্লিন নিয়ে অনেক কথা উঠেছে। কোচ অবশ্য এটাকে শৃঙ্খলাভঙ্গ মানতে নারাজ। তিনি মনে করেন, খেলোয়াড়দের কিছু ছাড় মানেই তারা উচ্ছৃঙ্খল, এটা বলা ঠিক নয়। একই সঙ্গে দলে স্থানীয়-বংশোদ্ভূত বিভাজনের যে কথা শোনা যায়, সেগুলোকে মিথ্যে দাবি করেছেন কোচ, ‘(দলে) বিন্দুমাত্র বিভাজন নেই। আমাদের দলে ২৮ জন খেলোয়াড় থাকে। খাবার টেবিলে বসতে পারে সর্বোচ্চ ৭-৮ জন। সবাই তো আর এক টেবিলে বসতে পারবে না। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আপনি আপনার পছন্দের বন্ধুর সঙ্গেই বসতে চাইবেন, অন্য কারও সঙ্গে নয়। এটা সাধারণ বিষয়। ক্লাবে যারা একসাথে খেলে বা যাদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো, তারা এক টেবিলে বসে। যুক্তরাজ্য থেকে আসা হামজারা হয়তো এক টেবিলে বসছে। তার মানে কি তারা অন্যদের পছন্দ করে না? একদমই ভুল। মাঠে নামলে আমরা সবাই এক দল এবং একে অপরের জন্য খেলি।’
সাফের শুরুর ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদকে না পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন ডুলি। এদিকে সাফের ক্যাম্পে কঠোর শৃঙ্ক্ষলা নিশ্চিতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছেন ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু।





