রোনালদোর উদযাপনেই থামেননি হইলুন্দ, জেসুসকেও ধাক্কা

সংগৃহীত ছবি
ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের ৪-২ গোলের জয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন রাশমুস হইলুন্দ। ম্যাচে গোল করে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপন করেছেন ডেনমার্কের এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিতর্কেও জড়িয়েছেন তিনি। একপর্যায়ে জেসুসকে ধাক্কা দেন হইলুন্দ।
ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ডেনমার্কের পাল্টা আক্রমণ থেকে গোলটি করেন হইলুন্দ। পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা এগিয়ে এলে তাকে চিপ করে বল জালে পাঠান নাপোলির এই স্ট্রাইকার। এরপর কর্নার পতাকার দিকে দৌড়ে গিয়ে রোনালদোর মতো আঙুল ঘুরিয়ে ‘সিউ’ উদযাপন করেন তিনি। গ্যালারিতেও তখন শোনা যায় ‘সিউ’ ধ্বনি।
রোনালদোর ভক্ত হিসেবে পরিচিত হইলুন্দ আগেও পর্তুগিজ তারকার উদযাপন করেছেন। ২০২৫ সালে পর্তুগালের বিপক্ষে ডেনমার্কের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচেও গোল করে রোনালদোর মতো উদযাপন করেছিলেন তিনি।
তবে ম্যাচের পরের ঘটনা নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। জেসুসের সঙ্গে হইলুন্দের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ডেনিশ ফরোয়ার্ড পর্তুগাল কোচকে ধাক্কা দেন। ঠিক কী কারণে এই ঘটনার সূত্রপাত তা অবশ্য পরিষ্কার নয়। পর্তুগালের সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছে। আ বোলা ঘটনাটিকে অদ্ভুত মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। ও জোগো এটিকে হালকা ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছে। আর রেকর্ড বলেছে এটি খুব একটা বন্ধুত্বপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি ছিল না। তবে জেসুস হাসি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
এদিকে রোনালদোকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেই জেসুস নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন। নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে রোনালদো পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন। তাকে কিছু সময় খেলানোর কথা বলা হলেও ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন জেসুস।
এরপর ইনস্টাগ্রামে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানান রোনালদো। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনা এবং জাতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনের পর ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। এর ফলে জাতীয় দল থেকে রোনালদোর অবসর নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে রোনালদোকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের সিদ্ধান্তের জন্য কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন জেসুস। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পর্তুগাল কোচ বলেন, ‘না, মোটেও নয়। আমার কোনো অনুশোচনা নেই। আমি এখনো একইভাবে চিন্তা করি। কিছু খেলোয়াড়ের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে সেটি পরিষ্কার। তবে আমি আবারও বলছি নিয়ম সবার জন্য একই। আমি সব সময় এভাবেই ভেবেছি এবং ভবিষ্যতেও আমাকে এভাবেই ভাবতে হবে।’
এর আগে রোনালদোকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে জেসুস বলেছিলেন, দলের কোনো খেলোয়াড় কিংবা ফুটবলের অন্য কেউ তার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবেন না। প্রয়োজন হলে রোনালদোকে খেলাবেন, প্রয়োজন না হলে খেলাবেন না। জাতীয় দলে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।



