নেপথ্যের গল্প
প্যারিসের স্টার হতে মায়ের বিরুদ্ধে যান এমবাপ্পে

২০১৭ সালে মোনাকো ছাড়ার সময় ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দেওয়ার আগে ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলে যোগ দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান এই ফরোয়ার্ডের মা ফায়জা লামারি স্বয়ং অ্যানফিল্ডের প্রেমে পড়েছিলেন। তিনি ছেলেকে অ্যানফিল্ডে দেখার প্রবল ইচ্ছে পোষণ করেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকার বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো তাকে দলে ভেড়াতে লড়াই চালাচ্ছিল। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন করে এমবাপ্পে বলেন, ‘তখন আমি মোনাকোয় খেলতাম। আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। হ্যাঁ, আমি লিভারপুলের খুব কাছাকাছি ছিলাম। আমার মা ইয়ুর্গেন ক্লপের বড় ভক্ত ছিলেন এবং তিনি চেয়েছিলেন আমি সেখানে যাই।’ লিভারপুলের প্রতি মায়ের ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মায়ের কথা শুনিনি। কারণ আমি নিজের শহর প্যারিসেই খেলতে চেয়েছিলাম। আমি তারকা হওয়ার আগে দেশ ছাড়তে চাইনি। কিন্তু মা সবসময় বলতেন, “তুমি লিভারপুলে যাবে, অ্যানফিল্ডে খেলবে, তোমার জন্য এটি দারুণ কিছু হবে।” আমি বলেছিলাম, “ঠিক আছে!” কিন্তু মা হাল ছাড়েননি।’
মায়ের অ্যানফিল্ড সফর সম্পর্কে এমবাপ্পে যোগ করেন, ‘আলোচনার প্রথম ধাপে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি শহর ও স্টেডিয়ামে গিয়ে সেখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, “এটি একটি চমৎকার ক্লাব। সবাই খুব দয়ালু, ঠিক যেন একটি পারিবার।” মা অ্যানফিল্ডে গিয়ে ক্লাবটির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। স্টেডিয়ামের পরিবেশ অনুভব করতে এবং আমাকে এই স্টেডিয়ামে কল্পনা করার জন্য তিনি একা কয়েকটি ম্যাচও দেখেছিলেন।’ তৎকালীন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের সঙ্গে ব্যক্তিগত জেট বিমানে হওয়া এক গোপন বৈঠকের স্মৃতিচারণ করে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমরা প্লেনে ছিলাম এবং যখন তিনি তার পরিকল্পনা বুঝিয়ে বলছিলেন, তখন আমরা আকাশে চক্কর কাটছিলাম। আমি তাকে বলেছিলাম, “আপনাকে আমাকে বোঝাতে হবে না। আপনি ইয়ুর্গেন ক্লপ, লিভারপুল কোচ। এটি একটি দুর্দান্ত ক্লাব। তাই অবশ্যই আমার এখানে আগ্রহ আছে। তবে আমার অন্যান্য বিষয় ও প্রকল্পও রয়েছে, যেগুলো ভালো।’
শেষ পর্যন্ত নিজের জন্মশহর প্যারিসের ক্লাব পিএসজিকেই বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ফরাসি তারকা বলেন, ‘এটি একটি মজার গল্প। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি পিএসজিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কারণ আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা প্যারিসে। নিজের শহরে নিজেকে স্টার হিসেবে প্রমাণ করার চেয়ে বড় অনুভূতি আর কিছু হতে পারে না।’





