নেপথ্যে
মেসি-রোনালদোরা কীসের আশায় ছোট ক্লাব কিনছেন?

লিওনেল মেসি কেন স্পেনের পঞ্চম বা দ্বিতীয় ডিভিশনের একটি ছোট দল কিনতে যাবেন? কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো মাঠে খেলে যাওয়ার পরও কেন স্পেনের একটি দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাবের মালিকানায় অংশীদার হলেন? উত্তরটা কেবল ফুটবলের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা নয়। এর পেছনে আছে ফুটবল ব্যবসা ও সুদূরপ্রসারী বিনিয়োগের সমীকরণ।
ফুটবল মাঠে রাজত্ব করার পর বর্তমান ও সাবেক তারকারা তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও গ্লোবাল ব্র্যান্ড ভ্যালুকে কাজে লাগাচ্ছেন ছোট ছোট ক্লাব কেনার পেছনে। ইউরোপীয় ফুটবলের কোনো জায়ান্ট ক্লাব কিনতে গেলে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও ছোট ক্লাবগুলোর দাম বেশ কম। তাই কম খরচে ক্লাব কিনে সেগুলোর মানোন্নয়ন, তরুণ খেলোয়াড় তৈরি এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের দুর্দান্ত সম্ভাবনা দেখছেন এই তারকারা। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন বা মাঝারি ডিভিশনের দলগুলো বিনিয়োগকারীদের জন্য এক আকর্ষণীয় সুযোগ। চ্যানেল এসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মোইসেস আসায়াগের মতে, কম প্রতিযোগিতামূলক ডিভিশনগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ কম লাগে এবং রাজস্ব ও মুনাফা বৃদ্ধির হার অনেক দ্রুত হয়। বাজার যাকে বলে আপসাইড পোটেনশিয়াল। অর্থাৎ, অল্প বিনিয়োগে দ্রুত বহুগুণ রিটার্ন পাওয়ার সুযোগ। একটি দল যত ওপরের ডিভিশনে উঠতে থাকে, তার ব্র্যান্ডভ্যালু ও সম্পদও সেই অনুপাতে বাড়তে থাকে।
মেসি ও রোনালদো ছাড়াও এই ট্রেন্ডে নাম লিখিয়েছেন বড় বড় তারকারা। কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফরাসি ক্লাব কান), এনগোলো কান্তে (বেলজিয়ামের রয়্যাল এক্সেলসিওর ভিরটন), জেরার্ড পিকে (অ্যান্ডোরা), ডেভিড বেকহ্যাম (ইন্টার মায়ামি ও স্যালফোর্ড সিটি) এবং জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচরাও (হামারবি) ছোট বা মাঝারি ক্লাবে বিনিয়োগের এই জোয়ারে শামিল হয়েছেন। রক নেশন স্পোর্টসের সিওও থিয়াগো ফ্রেইটাসের মতে, ঐতিহ্যবাহী বিনিয়োগকারীদের চেয়ে তারকাদের বিনিয়োগের প্রভাব সম্পূর্ণ আলাদা। মেসি বা রোনালদোর মতো তারকারা যখন কোনো ক্লাবের মালিকানায় আসেন, তখন তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় তাদের বিশ্বজোড়া খ্যাতি ও কোটি কোটি ফলোয়ার। যে ক্লাবটি এতদিন কেবল স্থানীয় স্তরে পরিচিত ছিল, বিশ্বখ্যাত তারকার ছোঁয়ায় রাতারাতি তা আন্তর্জাতিক প্রচার পেয়ে যায়। ফলে স্পনসরশিপ ও পণ্য বিক্রি বহুগুণ বেড়ে যায়।
শুধু ফুটবলাররাই নন, হলিউডের খ্যাতনামীরাও এখন এই ট্রেন্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। অভিনেতা রায়ান রেনল্ডস ও রব ম্যাকএলেনির হাত ধরে ওয়েলসের ক্লাব রেক্সহ্যাম পঞ্চম ডিভিশন থেকে যেভাবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পেয়েছে, তা ছোট ক্লাবের বাণিজ্যিক ও বিনোদনমূলক সম্ভাবনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ফুটবল তারকা থেকে শুরু করে তারকাদের এই অভিনব ক্লাব কেনার ঝোঁক প্রমাণ করে যে, সবুজ মাঠের বাইরে ক্লাব ফুটবলের ব্যবসা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।





