অভিযোগের পর নীরবতা ভাঙল সিটি

ফাইল ছবি
ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ কাঁপিয়ে দেওয়া ফুটবলের ঐতিহাসিক সেই ভূমিকম্পের এক দিন পর নীরবতা ভাঙল ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক স্পষ্ট করলেন নিজের অবস্থান। সিটির সমর্থকদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, ‘প্রিমিয়ার লিগের এই আইনি প্রক্রিয়ার পথ এখনও অনেক দীর্ঘ, ক্লাব যে নির্দোষ সেটা প্রমাণে আমারা আত্মবিশ্বাসী।’
ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে’র নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী প্রমাণিত হয়েছে বলে জানায় ‘দ্য অ্যাথলেটিক’। এই বোমা ফাটানো খবর সমর্থকদের মনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেকের ধারণা কয়েকটা শিরোপা হারিয়ে লিগ থেকে নীচের স্তরে নেমে যাবে তারা।
এমন খবরের জবাবে ক্লাবটির চেয়ারম্যান খালদুন আল মুবারক বলেন,‘যদিও কিছু মানুষ তড়িঘড়ি করে নিজেদের মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন এবং আমাদের ঘিরে অনেক গুজব রটানো হচ্ছে, বাস্তবে কিন্তু কিছুই বদলায়নি। আমরা আগেও একসঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি এবং জয়ী হয়েছি। এখনও অনেকেই আছেন যারা আমাদের ক্লাবের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চান। আমরা তাদের সেই সুযোগ দেব না।’
স্বাধীন কমিশন শাস্তি হিসেবে ম্যানসিটিকে যা দিতে পারে সেগুলো হচ্ছে- প্রতিযোগিতার বাইরে বের করে দেওয়া, সতর্কবার্তা, আর্থিক জরিমানা, পয়েন্ট কেটে নেওয়া কিংবা শিরোপা কেড়ে নেওয়া। তবে ব্রিটিশ প্রেস ইঙ্গিত দিয়েছে ,‘শাস্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সব পথই উন্মুক্ত রয়েছে এবং ম্যানচেস্টার সিটি আপিল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ অর্থাৎ ‘সিটি কেস’-এর নিষ্পত্তি হতে এখনও অনেক দেরি।
খালদুন আল মুবারকের চিঠি
আমি গত ১৮ বছর ধরে এই ক্লাবের অংশ। ইতিহাদ, ওয়েম্বলি এবং ইস্তাম্বুলে আপনাদের পাশে থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এই ক্লাবটি আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং ম্যানচেস্টার সিটি আপনাদের কাছে কতটা অর্থবহ তা আপনারা বারবার আমাকে দেখিয়েছেন ও বলেছেন। এজন্যই আজ আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে লিখছি।
শুক্রবারের খবরের পর আপনাদের অনেকেই হয়তো বিকেলটা বন্ধু, পরিবার এবং সহকর্মীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কাটিয়েছেন। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমি আমার পরিবারকে যা বলেছি, তা আপনাদেরও বলছি: প্রিমিয়ার লিগের এই আইনি প্রক্রিয়ার পথ এখনও অনেক দূর, এবং ক্লাবের নির্দোষিতা প্রমাণ করার জন্য আমাদের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্প আগের মতোই অটুট রয়েছে।
এমন অনেক কিছুই আছে যা আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই, যাতে আপনারা বুঝতে পারেন কেন আমরা আমাদের অবস্থানে এতটা আত্মবিশ্বাসী। তবে, আইনি প্রক্রিয়ার কঠোর গোপনীয়তা এবং তা মেনে চলায় আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এই মুহূর্তে আমাকে তা করার অনুমতি দিচ্ছে না। এমনকি নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে এই চিঠিটিকেও বেশ কয়েকটি আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
আমি আপনাদের অনুরোধ করব শুক্রবারে আমাদের দেওয়া বিবৃতি এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত বিবৃতিটি (নিচে দেওয়া হলো) মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য। প্রতিটি শব্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্য।
কিছু মানুষ তড়িঘড়ি করে নিজস্ব সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন এবং আমাদের ঘিরে অনেক গুঞ্জন থাকলেও, বাস্তবে কিছুই বদলায়নি। আমরা আগেই একসঙ্গে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি এবং বিজয়ী হয়েছি। এখনও অনেকে আছেন যারা আমাদের ক্লাবের অগ্রযাত্রাকে শ্লথ করতে চান। আমরা তাদের সেই সুযোগ দেব না।
এই ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকের পর আমাদের জন্য রোমাঞ্চকর সময় অপেক্ষা করছে। দুই সপ্তাহ পর আমরা অ্যানফিল্ডে যাব এবং তারপর ইতিহাদ স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইকে আতিথ্য দেব; এই মুহূর্তগুলো আমাদের ম্যানচেস্টার সিটি পরিবারের শক্তি উদযাপনের সুযোগ এনে দেবে।
আপনাদের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য সবসময় ধন্যবাদ।’
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া ম্যানচেস্টার সিটির বিবৃতি:
‘প্রিমিয়ার লিগের নিয়মকানুন ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটি এফসি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছে, বিশেষ করে যখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে পূর্ণ সহযোগিতা এবং প্রচুর বিস্তারিত নথি দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়টি একটি নিরপেক্ষ কমিশনের পর্যালোচনায় যাক—যাতে তারা আমাদের অবস্থানের পক্ষে থাকা সব বিস্তারিত ও খণ্ডনহীন প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে পারে—ক্লাব তাকে স্বাগত জানায়। তাই আমরা আশা করি এই বিতর্কের চিরতরে অবসান ঘটবে।’



