উত্তেজনার ম্যানচেস্টার ডার্বিতে মিল্কগেট-চুমু-মধ্যমা আর হেডবাট কাণ্ড

সংগৃহীত ছবি
ম্যানচেস্টার ডার্বি মানেই উত্তেজনা। রবিবার আরও একটি রোমাঞ্চকর ডার্বিতে ওল্ড ট্র্র্যাফোর্ডে মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি। সেই ম্যাচের আগে তুলে ধরা হল ম্যানচেস্টার ডার্বির উত্তেজনার ৭টি মুহূর্ত
১
রয় কিন বনাম আলফ-ইনগে হলান্ড (২০০১)
২০০১ সালে ডার্বি ম্যাচের শেষ দিকে আলফ-ইনগে হলান্ডকে (আরলিং হলান্ডের বাবা) হাঁটু সমান উঁচুতে জঘন্য ট্যাকল করেন ম্যানইউ অধিনায়ক রয় কিন। কিন পরে স্বীকার করেন, চার বছর আগের এক ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এমন ফাউল করেছিলেন। লিডস ইউনাইটেডে খেলার সময় কিনের একটা চোটকে নাটক বলে গালি দিয়েছিলেন হলান্ড। ডার্বিতে ফাউলের জন্য কিনকে ৫,০০০ পাউন্ড জরিমানা ও ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তবে এক বছর পর নিজের আত্মজীবনীতে এটি পূর্বপরিকল্পিত ফাউল ছিল বলে স্বীকার করায়, তাকে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড জরিমানা ও অতিরিক্ত ৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। অনেকে বলেন এই ফাউলের কারণেই হলান্ডের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়, কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি ওই ম্যাচের বাকি অংশ এবং পরের ম্যাচেও ৬৮ মিনিট খেলেছিলেন। আসলে তার বাঁ হাঁটুতে পুরোনো চোটের কারণেই ফুটবল ক্যারিয়ার শেষ হয়, কিনের ট্যাকল করা ডান হাঁটুর জন্য নয়।
২
পোল স্কোলসকে গ্যারি নেভিলের চুমু (২০১০)
ইতিহাদে ২০১০ সালে শেষ মুহূর্তের গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন পল স্কোলস। উচ্ছ্বাসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল তখন স্কোলসের মুখে চুমু খেয়ে বসেন, যা ডার্বির অন্যতম অদ্ভুত এক দৃশ্য। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে রসিকতা করে স্কোলস বলেছিলেন, ‘ওর গোঁফ দিয়ে আমায় সুরসুরি দিচ্ছিল! সত্যি বলতে আমি একদমই এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।’
৩
ফার্ডিনান্ডের মুখে কয়েনের আঘাত ও জো হার্টের মেজাজ (২০১২)
২০১২ সালের ডিসেম্বরে রবিন ফন পার্সির একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয় রেড ডেভিলরা। উল্লাসের একপর্যায়ে সিটি গ্যালারি থেকে ছোঁড়া একটি কয়েন এসে লাগে রবিন ফন পার্সির সতীর্থ রিও ফার্ডিনান্ডের চোখে। তার চোখ থেকে রক্ত ঝড়ছিল তখন।
এই উত্তেজনার মাঝে বিয়ার খেয়ে মাতাল এক সিটি সমর্থক ফার্ডিনান্ডকে মারতে মাঠে নেমে পড়েন। তবে সিটি গোলরক্ষক জো হার্ট তাকে আটকে দেন। ম্যাথিউ স্টট নামের সেই ভক্তের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে তিন বছরের জন্য মাঠে প্রবেশে নিষিদ্ধও করা হয়।
৪
‘মিল্কগেট’ (২০১৭)
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ২-১ গোলে জয়ের পর সিটির পয়েন্ট ব্যবধান ১১-তে পৌঁছায়। ড্রেসিংরুমে অতিরিক্ত উদযাপন দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে জোসে মরিনহো সিটির ড্রেসিংরুমে ঢুকে তাদের ‘সম্মান প্রদর্শন’ করতে বলেন। সেখানে সিটির পর্তুগিজ গোলরক্ষক এদেরসনের সঙ্গে তার তীব্র কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে মরিনহোর গায়ে পানি ও দুধ ছুঁড়ে মারা হয়েছিল! এটাকেই বলা হয় ‘মিল্কগেট’।
এই হট্টগোলের মধ্যে একটি বোতলের আঘাতে গাল কেটে রক্ত পড়ছিল সিটির তখনকার সহকারী কোচ মিকেল আর্তেতার (বর্তমানে আর্সেনাল কোচ)। তবে কে বোতলটি ছুঁড়েছিলেন তা জানা যায়নি।
৫
গ্যারি নেভিলের মধ্যমা (২০১০)
কার্লোস তেভেজ যখন ইউনাইটেড ছেড়ে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী সিটিতে যোগ দেন, তখন সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মাঝে তৈরি হয় ব্যাপক ক্ষোভের। তাই ২০১০ সালের জানুয়ারিতে লিগ কাপের এক ম্যাচে টাচলাইনে দাঁড়িয়ে তেভেজকে হাতের মধ্যমা আঙুল দেখান গ্যারি নেভিল।
এর আগে নেভিল মন্তব্য করেছিলেন, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তেভেজকে পাকাপাকিভাবে না কিনে সঠিক কাজই করেছেন। এর জবাবে তেভেজ নেভিলকে ‘চাটুকার’ ও ‘নির্বোধ’ বলে গালি দিয়েছিলেন। ম্যাচটিতে সিটি ২-১ গোলে জেতে এবং দুটি গোলই করেন তেভেজ।
৬
ভক্তকে ক্রেগ বেলামির চড় (২০০৯)
২০০৯ সালের সেই ঐতিহাসিক ৪-৩ ব্যবধানের ম্যাচে মাইকেল ওয়েনের শেষ মুহূর্তের গোলে তৈরি হয়েছিল ডার্বি ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়।
ম্যাচ চলার সময় জেক ক্লার্ক নামের এক সমর্থক মাঠে ঢুকে পড়লে সিকিউরিটি গার্ডরা তাকে ধরে ফেলেন। তবে সিটির ফরোয়ার্ড ক্রেগ বেলামি এসে সমর্থকটির মুখে চড় মেরে বসেন। সেই সমর্থককে ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ও ৩০৫ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল আর এফএ বেলামিকে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়।
৭
ফেলাইনির হেডবাট (২০১৭)
২০১৭ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত ০-০ ড্র হওয়া নিরুত্তাপ ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে মেজাজ হারান মারুয়ান ফেলাইনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডার পুরো ৮৩ মিনিট দারুণ শান্ত থাকলেও, সের্হিও আগুয়েরোকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখার পর মুহূর্তেই তাকে মাথা দিয়ে গুঁতো (হেডবাট) মেরে বসেন। এরপর রেফারি লাল কার্ড দেখান তাকে।








