এমবাপ্পের আচরণে ক্ষুব্ধ রিয়াল মাদ্রিদ

সংগৃহীত ছবি
মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষের অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে বলে দাবি করেছে ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেশনস লিগের প্রথম ম্যাচে চোট পাওয়ার পর এমবাপ্পের কয়েকটি কর্মকাণ্ডে ক্লাবের ভেতরে বিরক্তি তৈরি হয়েছে। রিয়ালের ভেতরে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ক্লাবের লক্ষ্য নয় বরং নিজের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এই তারকা। এমন অভিযোগও উঠেছে যে ব্যালন ডি’অর জেতাকে দলের সাফল্যের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
লেকিপের কাছে এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্লাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় হয়ে গেল তবু মনে হচ্ছে রিয়াল এবং ক্লাবের আশপাশের মানুষ কীভাবে কাজ করে, সেখানে কীভাবে আচরণ করতে হয় সেটা এমবাপ্পে এখনো বুঝতে পারেননি। তাকে খুব খারাপ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভাবমূর্তির দিক থেকে এটি তার এবং ক্লাব—দুই পক্ষেরই ক্ষতি করছে।’
সম্প্রতি ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া এমবাপ্পের সাক্ষাৎকার নিয়েও রিয়ালে সমালোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ব্যালন ডি’অরের ভোট আয়োজনকারী এই ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আবারও পুরস্কারটি জেতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন, ‘এবার এটি জেতার জন্য ভালো একটি বছর।’
তুরস্কের বিপক্ষে ফ্রান্সের ১-০ গোলের জয়ের ম্যাচে বাঁ হাঁটুর পেছনের অংশে চোট পান এমবাপ্পে। এরপর থেকেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন তিনি। তবে এরপর তার কয়েকটি কর্মকাণ্ডে রিয়ালের অন্দরমহলে অস্থিরতা তৈরি হয়। গত সপ্তাহে প্যারিসের একটি ক্লাবে তাকে দেখা যায়। এরপর সুইজারল্যান্ডে সাইকেল চালানোর ছবি নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলে শুরু হয় আরও সমালোচনা।
বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে কারণ এর কিছুদিন আগেই রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো খেলোয়াড়দের এমন বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার সতর্কতা দিয়েছিলেন। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই নির্দেশনা দিয়েছিলেন মরিনহো।
এমবাপ্পের সাইকেল চালানোর বিষয়টি স্পেনের সংবাদমাধ্যমও ভালোভাবে নেয়নি। কাদেনা সেরের সাংবাদিক আন্তোনিও রোমেরো বলেন, ‘এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড হতে পছন্দ করেন, কিন্তু তিনি এটাও মনে করেন যে যা খুশি করতে পারেন। তাকে বলা উচিত এটি এমবাপ্পে এফসি নয়, এটি রিয়াল মাদ্রিদ।’
এদিকে, কাদেনা সেরের ‘এল লারগুয়েরো’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক আন্তন মিয়ানা বলেন, ড্রেসিংরুমের এই সমস্যা এমন একটি বিষয় যা মরিনহোর আগে রিয়ালের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জাবি আলোনসো ও আলভারো আরবেলোয়াও সামলাতে পারেননি, ‘একমাত্র সমস্যা হলো পাঁচ মাস আগের মতো এখনো ড্রেসিংরুমের পরিবেশ একই রকম ঠান্ডা।’



