নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের ২৬ জনের ব্রাজিলিয়ান দলে রয়েছেন নেইমার। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জিততে হলে দরকার ‘এক্স ফ্যাক্টর’। ব্রাজিলিয়ান দলে সেই জাদুকর নেইমার। তাকে ছাড়া বিশ্বকাপে যাওয়ার ঝুঁকি নিলেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় আনচেলত্তি নেইমারের নাম নিতেই করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। এই নামটার প্রতীক্ষাতেই যেন ছিলেন সবাই।
বারবার চোটে পড়ায় বিশ্বকাপ খেলতে নেইমারকে পুরো ফিট হওয়ার শর্ত দিয়েছিলেন আনচেলত্তি। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে চোট পাওয়ার পর আর জাতীয় দলেও ফেরা হয়নি তার। আল হিলাল থেকে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে এসে নিজেকে অনেকটাই ফিরে পান নেইমার।
ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৭৯ গোল করা নেইমারকে দলে নেওয়ার ব্যাখ্যায় আনচেলত্তি জানালেন,‘ সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে খেলেছে নেইমার। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতির সুযোগ পাবে সে। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা এবং দলের মধ্যে তার প্রতি যে ভালোবাসা রয়েছে, সেটা ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। আর পারে দলকে সাহায্য করতে।’
আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সারা বছর ধরে নেইমারকে মূল্যায়ন করেছি, আর দেখোছ যে এই শেষ সময়ে সে ধারাবাহিকভাবে খেলেছে, যা তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি করেছে। আমরা মনে করি সে একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। এই বিশ্বকাপেও সে একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হবে। তার ভূমিকা এবং দায়িত্ব বাকি ২৫ জনের মতোই। তার খেলার, না খেলার, বেঞ্চে থাকার, বা মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদের মতোই তারও একই দায়িত্ব।’
২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের পর এবার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন নেইমার। কাফু, রোমারিওর মতো তারকারা ব্রাজিলকে নিয়ে তাই আশাবাদী হবেন আরও বেশি। কারণ নেইমারের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা যখন কমে আসছিল,তখন এই দুজন জোড়ালোভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তার। শিরোপার জন্য অর্ধেক ফিট নেইমারকেও চেয়েছিলেন রোমারিও।
ব্রাজিলের দলে চমক বলতে গোলরক্ষক ওয়েভারতন। বেন্তো ও হুগো সুজোকে বাদ দিয়ে তাকে নেওয়ার ব্যাখ্যায় আনচেলত্তির যুক্তি,‘আমরা ভাবছিলাম যে এই প্রতিযোগিতার জন্য ওয়েভারতনের মতো আরেকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় প্রয়োজন হবে।’
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল
গোলরক্ষক: এদেরসন (ফেনারবাচে), ওয়েভারতন (গ্রেমিও),আলিসন (লিভারপুল)।
ডিফেন্ডার: গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল), রজার ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনিওস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা), অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত)।
মিডফিল্ডার: দানিলো (বোতাফোগো), ফাবিনিও (আল-ইত্তিহাদ), লুকাস পাকেতা (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), কাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)।
ফরোয়ার্ড: মাথেউস কুনিয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নেইমার (সান্তোস), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), এনদ্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইস এনরিকে (জেনিত)।




