শেষ অভিযানে পর্তুগিজ রাজা

তার নামটা রাখা হয়েছিল রোনাল্ড রিগ্যান নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রেসিডেন্টের নামে। সেই যুক্তরাষ্ট্রেই যদি বর্তমান প্রেসিডেন্টের হাত থেকে বিশ্বকাপ পেয়ে যান ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, তাহলে কেমন হবে ব্যাপারটা! ২০২২ সালে লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ উঠেছে, তাতে শোধ হয়েছে মেসির কাছে ফুটবলের ঋণ। রোনালদোও তো কম বিনোদন দেননি ফুটবলপিয়াসীদের। মানুষের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সীমার সীমানা ছাড়িয়ে রোনালদো দেখিয়েছেন— প্রতিভা নয়, পরিশ্রমের জোরেও ভাগ্য বদলে ফেলা যায়।
পর্তুগালের ২০২৬ বিশ্বকাপের অভিযান শুরু হচ্ছে আজ, প্রথম প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো। ১৪৮২ সালে ডিয়েগো চিয়াও নামে এক পর্তুগিজ নাবিক প্রথম ইউরোপিয়ান হিসেবে কঙ্গো নদীর সন্ধান পান। সেই থেকে পর্তুগালের সঙ্গে কঙ্গোর রাজনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাত। তবে আজকে সেসব সৌজন্য পাশেই সরিয়ে রাখবেন রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা। প্রতিবেশী স্পেনকে আরেক ‘পুঁচকে’ আফ্রিকান প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে যেভাবে ঠেকিয়ে দিল, তাতে করে কঙ্গোকে নিয়ে পর্তুগালের দুশ্চিন্তা কম নয়।
শোককে সঙ্গী করেই এবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে পর্তুগাল। এক বছরও হয়নি, গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ডিয়েগো জোতা। পর্তুগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল করা এই ফরোয়ার্ডের স্মৃতির উদ্দেশে তার নাম লেখা বিশেষ এক রিস্টব্যান্ড পরে মাঠে নামবেন পর্তুগালের খেলোয়াড়রা। যেই রিস্টব্যান্ড তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ৪ হাজার ৩৩৭ দিন পর খেলতে নামবেন রোনালদো। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ও বিজ্ঞাপনের জগতের অন্যতম আরাধ্য এই পুরুষকে বিশ্বের অনেক জায়গাতেই দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে তার আসতে বিশেষ অনীহা। কারণ, দুঃসহ এক স্মৃতি। ২০০৯ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার আগে এক সপ্তাহের জন্য লাস ভেগাসে বেড়াতে এসেছিলেন রোনালদো। সেখানে তার সঙ্গে নাইটক্লাবে পরিচয় হয় ক্যাথরিন মেয়রগা নামে এক তরুণীর। পরে এই তরুণী দাবি করেন, রোনালদো তাকে ধর্ষণ করেছেন। এ নিয়ে মামলা, আইনি সমস্যা, শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়ে আদালতের বাইরে তার সঙ্গে মীমাংসা করেন রোনালদোর আইনজীবীরা। এখানেই থেমে থাকেনি ব্যাপারটা। ২০১৭ সালে আবারও এই মামলা নতুন করে শুরু করেন মেয়রগা, অবশেষে ২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত পাকাপাকিভাবে রোনালদোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিল করেন।
এখন অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র মানেই রোনালদোর জন্য সেই ধর্ষণ মামলার দুঃসহ স্মৃতি নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নভেম্বরে হোয়াইটহাউজে নৈশভোজে এসেছিলেন রোনালদো। সেখানে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার ছেলে ব্যারন রোনালদোর বড় ভক্ত, ‘আমার ছেলে রোনালদোর বড় ভক্ত। আশা করি, সে এখন তার বাবার কথা শুনবে। কারণ, তার বাবাই তো রোনালদোকে এখানে নিয়ে এসেছে।’
প্রেসিডেন্টের নামে নাম, প্রেসিডেন্ট ভবনে নৈশভোজ, এবার মার্কিন দেশে বিশ্বকাপ জিতলেই হয়!




