উয়েফা নেশনস লিগ
বয়কটের মুখে আয়ারল্যান্ড-ইসরায়েল ম্যাচ

সংগৃহীত ছবি
ইসরায়েল ও আয়ারল্যান্ডের ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে নেশনস লিগের ম্যাচটি বয়কট করার আওয়াজ উঠেছে। বয়কটের চাপ বাড়তে থাকায় আয়ারল্যান্ড দলের সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার হাঙ্গেরির দেবরেসেনে মুখোমুখি হবে দুই দল।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন সাংবাদিকরা। শুরু হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে জানানো হয় অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলন হবে। পরে অনুশীলনও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক দেরিতে শুরু হয়। আইরিশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই জানিয়েছে, অনুশীলন শুরুর নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পরও খেলোয়াড়েরা হোটেলেই ছিলেন।
আয়ারল্যান্ডে ইসরায়েলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ বয়কটের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। প্রথম ম্যাচটি সোমবার দেবরেসেনে। এরপর ৫ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা টোপোলায় হবে আয়ারল্যান্ডের হোম ম্যাচ।
আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হলগ্রিমসন এর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা গণহত্যার সঙ্গে খেলছি না। গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি। আমরা ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলছি, ইসরায়েলের সঙ্গে খেলছি না।’ তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েল ফুটবল ফেডারেশন।
আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনুও ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে চান না বলে খবর এসেছে। ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দাবি জোরালো হওয়ার মধ্যে বাজুনুর এই অবস্থান দলটির ভেতরের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। জানা গেছে, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচে অংশ নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে বাজুনুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এফএআই বা দলীয় কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আরটিইর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচগুলোতে খেলতে চান না। প্রতিবেদক টনি ও’ডোনোগু বলেন, ‘তারা যদি একসঙ্গে থাকার যে অবস্থানের কথা জানিয়েছে সেটি ধরে রাখতে চায়, তাহলে একজন বা একাধিক খেলোয়াড় না খেলতে চাইলে পুরো দলই হয়তো ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।’
তবে আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) ম্যাচ বয়কটের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের যুক্তি, ম্যাচ বয়কট করলে উয়েফার কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে দল। ২০২৮ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করবে আয়ারল্যান্ড।
এদিকে ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ এফএআইকে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
গত সপ্তাহে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরে বিক্ষোভও হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা খেলোয়াড়দের ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানান। দেশটির শ্রমিক ইউনিয়ন এসআইপিটিইউ ডাবলিনের লিফি নদীর পাশে একটি বড় পোস্টারও টাঙিয়েছে। সেখানে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে লেখা ছিল, ‘নিজের বিবেকের কথা শুনুন’ এবং ‘গণহত্যাকারীদের সঙ্গে খেলবেন না।’
আয়ারল্যান্ডের সাবেক কোচ ব্রায়ান কারও ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি এফএআই এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আইরিশ জনগণের সম্মান হারিয়েছে, ‘আইরিশ জনগণ ও ফুটবলপ্রেমীরা ম্যাচ দুটি খেলতে চান না। গত এক বছরে তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। গত নভেম্বরে এফএআই নীতিগত কারণে ইসরায়েলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ উয়েফার কাছে জানিয়েছিল। অথচ এখন তারা সেই অবস্থানের বিপরীতে গেছে।’



