লামিনে ইয়ামাল
আমিই ব্যালন ডি’অর পাওয়ার যোগ্য

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের জন্য নিজেকে যোগ্য ঘোষণা করেছেন বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দারুণ এক মৌসুম কাটানোর পর নিজেকে গ্রহের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে দেখতে চান এই ১৯ বছর বয়সী তারকা। একই সঙ্গে বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে কেবল তিনি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে সেরার লড়াইয়ে আছেন বলেও মন্তব্য করেছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার।
ইউনিভার্সো ভালদানোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলেছের এই লা মাসিয়া গ্র্যাজুয়েট। সম্প্রতি ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর ইয়ামাল সরাসরি এই লড়াইয়ের পরিধি কমিয়ে কেবল দু’জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন। ব্যালন ডি’অর কাকে দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কাকে দেব? বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে। সত্যি বলতে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের কথা যদি বলেন, তবে সম্ভবত আমাদের দুজনকেই বেছে নেওয়া যায়—আমি এবং এমবাপ্পে। আর আমি মনে করি, আমি এই বছর যা অর্জন করেছি, তার ওপর ভিত্তি করে আমিই এটি পাওয়ার যোগ্য।’ নিজের অর্জন ও সামর্থ্যের কথা স্পষ্ট করে ইয়ামাল আরও যোগ করেন, ‘হ্যাঁ, আমার কাছে বিষয়টি খুবই পরিষ্কার এবং যারা ম্যাচগুলো দেখেন, তারা সবাই এটি জানেন।’
চলতি মৌসুমে ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন ইয়ামাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪টি গোলের পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চিনিয়েছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার সময়টা দুর্দান্ত কেটেছে। চলতি বছর দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। দলগত ট্রফি এবং ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান তাকে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে বলে বিশ্বাস তার।
অন্যদিকে, ট্রফির খরা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সুবাদে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শক্ত অবস্থান দাবি করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও তার ক্লাব কোনো বড় ট্রফি জেতেনি এবং বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইয়ামালের স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল, তবুও ব্যক্তিগত অর্জনে অনন্য উচ্চতায় ছিলেন ফরাসি অধিনায়ক। বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি মেগা টুর্নামেন্টগুলোতে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখায় দলগত ট্রফির চেয়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে এমবাপ্পে।
দলীয় সাফল্য আর ব্যক্তিগত রেকর্ডের এই জমজমাট লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে মর্যাদাপূর্ণ এই সোনালী বল, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।




