দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম
কঠিন বাস্তবতাকে মনে করিয়ে দিলেন বাটলার

ছবি: বাফুফে
প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল তারা। এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে খেল ৬ গোল। দুই ম্যাচে ১৬ গোল খেয়ে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার মনে করিয়ে দিচ্ছেন কঠিন বাস্তবতাকেই।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার অকপটে স্বীকার করেছেন, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান পর্যায়ের ফুটবলের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। তার মতে, এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা এখনও বাংলাদেশের তৈরি হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘সত্যি বলতে ৬-০ ব্যবধানটা আমার কাছে একটু বেশিই নিষ্ঠুর মনে হয়েছে। কিন্তু আমরা এমন এক দল, একটা গোল হজম করলে পরপর তিনটা হজম করে ফেলি। কখনো কখনো আমরা পাথরের মতো শক্ত ও দৃঢ়, আবার কখনো ফুটো হয়ে যাওয়া তাঁবু। খুব সহজেই একের পর এক গোল হজম করতে পারি।’
সাফ চ্যাম্পিয়ন হলেও এশিয়ার পরাশক্তিদের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে এখনও অনেক পিছিয়ে, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাটলার, ‘এই মুহূর্তে আমাদের জন্য এটা অনেক বড় একটা ধাপ। আমি জোর দিয়ে বলছি, এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো সেই অবকাঠামো বা সামর্থ্য আমাদের নেই। সাফ পর্যায়ে খেলা আর এশিয়ান গেমস বা এশিয়ান কাপে খেলার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত।’
দক্ষিণ কোরিয়ার সামর্থ্যের প্রশংসাও করেছেন বাংলাদেশের কোচ, ‘তারা খুব ভালো একটা দল। অলিম্পিক, এশিয়ান কাপের মতো আসরে তারা নিয়মিত খেলে। এত মানসম্পন্ন একটা দলের কাছে হারার মধ্যে কোনো লজ্জার কিছু নেই। তবে আপনি তো হতাশ হবেনই।’
বড় ব্যবধানে হারের হতাশা পেছনে ফেলে মিয়ানমার ম্যাচেই মনোযোগ দিতে চান বাটলার, ‘নিজেদের সামলে নিয়ে, গায়ের ধুলো ঝেড়ে আমাদের আবার এগোতে হবে। যেমনটা বলেছিলাম, এই পুরো ব্যাপারটাই ছিল মিয়ানমার ম্যাচের প্রস্তুতি। মিয়ানমারও কোনো সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। তাদের কোচ কলিন বেশ গোছানো একজন মানুষ এবং এই পর্যায়টা তিনি খুব ভালোভাবে চেনেন।’
বাংলাদেশ দল বর্তমানে একটি পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেও মনে করেন বাটলার, ‘এই পর্যায়ে লড়াই করতে হলে আপনার সময় এবং বিনিয়োগের প্রয়োজন। এক দল খেলোয়াড় যখন তাদের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে চলে আসে, তখন সেই শূন্যস্থান পূরণের জন্য নিয়মিত নতুন খেলোয়াড় খুঁজতে হয়। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, আমরা একটি পালাবদলের মধ্যে আছি। দল হিসেবে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আবার শুরু করাটাই এখন আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’



