উপহার পেয়ে ঋতু যাচ্ছেন মিয়ানমারে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ঋতুপর্ণার হাতে বাড়ি নির্মাণের অর্থ সহায়তা তুলে দেনবাফুফে
নারী সাফ খেলে দুদিন আগে ভারত থেকে ফিরেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের পোস্টারগার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা। ফিরেই পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু কমার্শিয়ালের শুটিংয়ে সময় দিতে হচ্ছে তাকে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে। সরকারপ্রধান তার হাতে তুলে দিয়েছেন বহুল প্রতীক্ষিত বাড়ি নির্মাণের অর্থসহায়তা। সরকারের কাছ থেকে এমন পুরস্কার হাতে নিয়ে ঋতু জানালেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার তিনি যাচ্ছেন মিয়ানমারে। সে দেশের নারী লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল এয়াওয়াডি ইউনাইটেডের হয়ে খেলবেন বাংলাদেশ উইঙ্গার। এর মধ্য দিয়ে একটা নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি নারী ফুটবলার হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে কোনো দেশের লিগে খেলবেন ঋতু।
গত মৌসুমে খেলেছেন ভুটানের নারী লিগে পারো এফসির হয়ে। এবারও সে ক্লাব থেকে প্রস্তাব ছিল। ভুটানের রয়্যাল থিম্পু কলেজও নিতে চেয়েছিল তাকে। তবে ভুটানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন মিয়ানমারের শীর্ষ ক্লাবের আকর্ষণীয় প্রস্তাব পেয়ে। নিজেই বলেছেন, ‘ভুটানের দুই ক্লাবের চেয়ে মিয়ানমারের ক্লাবটির প্রস্তাব অনেক বড় ছিল। তবে টাকার জন্য নয়, আমি মূলত যাচ্ছি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে। আগে ভুটানে খেলেছি। সেই লিগ সম্পর্কে জানা হয়েছে। এখন নতুন একটা লিগে খেলে নিজের অবস্থান সম্পর্কে জানব এবং নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করব।’
মিয়ানমারের ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন নারী সাফ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে। ১৫ জুন শুরু হতে যাওয়ার লিগে তার ক্লাব খেলবে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে। যতটা জানা গেছে, ৯ দলের লিগে তিনিই একমাত্র বিদেশি ফুটবলার হিসেবে সে লিগে খেলবেন। এর আগে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের ভারত, মালদ্বীপ ও ভুটানের লিগে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। শুরুটা হয়েছিল সাবিনা খাতুনের মাধ্যমে। তবে ঋতু সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে, ‘এটি আমার জন্য অন্যরকম একটা ভালোলাগা। এখানে খেলে যে অভিজ্ঞতা পাব, নিশ্চিতভাবে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা থাকবে জাতীয় দলে।’
২০২২ সাফ জয়ের পর রাঙামাটির তৎকালীন জেলা প্রশাসক দুর্গম পাহাড়ি মঘাছড়া ইউনিয়নে বাড়ি নির্মাণের জন্য খাসজমি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ক্যানসারে আক্রান্ত মাকে নতুন বাড়ি করে দেওয়ার স্বপ্নটা তখন থেকে দেখতে শুরু করেছিলেন ঋতু। মাঝে ২০২৪ সালে দেশকে সাফ জেতানোর পরও এরকম প্রতিশ্রুতি পান। তবে বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের উদ্যোগে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পান জমি কেনার অর্থ, ‘সরকারপ্রধানের কাছ থেকে অনেক অপেক্ষার পর জমি কেনার অর্থসহায়তা পেয়ে সত্যি ভালো লাগছে। আমি প্রধানমন্ত্রী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বাফুফে সভাপতিসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ ২০২২ সাফ খেলতে যাওয়ার দুই মাস আগে একমাত্র ভাইকে হারান ঋতু। ২০১৫ সালে হারিয়েছিলেন বাবাকে। এর পর থেকে ফুটবল খেলেই সংসার চালাচ্ছেন চার বোনের সবচেয়ে ছোট ঋতু, ‘ভাইয়ের কথা প্রতিনিয়ত মনে হয়। ও বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতো। বাবাও অনেক খুশি হতেন। শেষ পর্যন্ত মায়ের জন্য বাড়ি বানানোর পথে একটা পদক্ষেপ নিতে পারব— ভাবতেই ভালো লাগছে।’
জানা গেছে, সরকারি খাসজমি নয়, সরকারের সহযোগিতায় ঋতুকে নিজ ইউনিয়নে রেকর্ডেড জমি কিনে দেওয়া হবে। জমি পাওয়ার পর এবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বাড়ি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দিলেই হবে ঋতুর স্বপ্নপূরণ। দেশকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার চেনানো ঋতুর স্বপ্নটা নিশ্চয়ই খুব বড় নয়।




