মান্তা শিশুদের শিক্ষায় শামীমের উদ্যোগ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামে বাড়ির উঠানে মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের পাঠশালা
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আড়িয়াল খাঁর তীরে গড়ে উঠেছে সুবিধাবঞ্চিত মান্তা সম্প্রদায়ের ৫০ শিশুকে নিয়ে পাঠশালা। রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে প্রায় সাত মাস আগে রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত শামীম হোসেনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে এই পাঠশালা। তার এ উদ্যোগে সায় দিয়ে মান্তা শিশুদের প্রতিদিন পাঠদান করছেন দুই বোন মিতু আক্তার ও মুন্নী আক্তার।
শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ‘আড়িয়াল খাঁর পাড়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়ার সময় মান্তা শিশুদের জীবনমান চোখে পড়ে আমার। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, এসব শিশু সুবিধা ও শিক্ষাবঞ্চিত। আমার মনে হলো এই অর্ধশত শিশু নিরক্ষর থাকতে পারে না। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।’
শামীম বললেন ‘কয়েক দিন পর লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমানের মেয়ে মিতু ও মুন্নীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তারাও এসব শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানে আগ্রহী হন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আমরা বেদে শিশুদের নিয়ে এই পাঠশালার কার্যক্রম শুরু করি। মিতু ও মুন্নীদের বাড়ির উঠানেই এই পাঠশালা চালু হয়। তারা বিনামূল্যে শিশুদের পড়ানোর কার্যক্রম শুরু করে এবং খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ আমি বহন করা শুরু করি।’
শামীম বলেছেন, প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে শিশুরা পাঠশালায় আসতে শুরু করে এবং বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত পড়ানো হয় শিশুদের। পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানোর জন্য তাদের প্রতিদিনই চকলেট বা বিস্কুট দেওয়া হয়। প্রথমে অল্পসংখ্যক শিশু পাঠশালায় এলেও এখন উঠান ভর্তি থাকে তাদের উপস্থিতি।
মান্তা সম্প্রদায়ের শিশু ইব্রাহিমের মা সরবানু বেগম বলছিলেন, ‘আমরা তো কখনো পড়ালেখা করিনি, আমাদের সন্তানকেও পড়ালেখা করানোর চিন্তাভাবনা ছিল না। পরে আমাদের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে ওই পাঠশালায় সন্তানদের নেওয়া হয়েছে। তাদের খাতা-কলম ও বই— সবই ওইখান থেকে দেওয়া হয়। আমাদের কোনো টাকাপয়সা লাগে না।’
লোহালিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে শামীম (৪০)। তার পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
মুন্নী বলছিলেন, ‘শামীম ভাইয়ের উদ্যোগে ও পরিচালনায় পাঠশালাটি চলছে। আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুকে পাঠদান করছি। আমার বোনও এতে সহায়তা করে। বিদ্যালয়বিমুখ ও অক্ষরজ্ঞানহীন এসব শিশুর পাঠদান খোলা আকাশের নিচে চললেও দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে এখানে। তবে বর্ষা মৌসুমে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম প্রিন্সের ভাষ্য, ‘এই মহতী উদ্যোগ যারা নিয়েছেন, তারাও মহৎ। কেননা মান্তা সম্প্রদায়ের এই শিশুদের নিয়ে কজনের চিন্তা রয়েছে। ওনারা উদ্যোগ নিয়ে যে কাজটি করছেন, এতে যতটা সম্ভব আমরাও সহায়তা করব।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে তাদের পাঠদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানালেন, এসব শিশুকে সহায়তার জন্য নিকটবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বলা হয়েছে। তা ছাড়া বিকালে সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ যাতে তারা ব্যবহার করতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।তন্ময় তপু ও মোহাম্মদ আলী, বরিশাল
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আড়িয়াল খাঁর তীরে গড়ে উঠেছে সুবিধাবঞ্চিত মান্তা সম্প্রদায়ের ৫০ শিশুকে নিয়ে পাঠশালা। রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামে প্রায় সাত মাস আগে রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত শামীম হোসেনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে এই পাঠশালা। তার এ উদ্যোগে সায় দিয়ে মান্তা শিশুদের প্রতিদিন পাঠদান করছেন দুই বোন মিতু আক্তার ও মুন্নী আক্তার।
শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ‘আড়িয়াল খাঁর পাড়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়ার সময় মান্তা শিশুদের জীবনমান চোখে পড়ে আমার। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, এসব শিশু সুবিধা ও শিক্ষাবঞ্চিত। আমার মনে হলো এই অর্ধশত শিশু নিরক্ষর থাকতে পারে না। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত।’
শামীম বললেন ‘কয়েক দিন পর লোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমানের মেয়ে মিতু ও মুন্নীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তারাও এসব শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানে আগ্রহী হন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আমরা বেদে শিশুদের নিয়ে এই পাঠশালার কার্যক্রম শুরু করি। মিতু ও মুন্নীদের বাড়ির উঠানেই এই পাঠশালা চালু হয়। তারা বিনামূল্যে শিশুদের পড়ানোর কার্যক্রম শুরু করে এবং খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ আমি বহন করা শুরু করি।’
শামীম বলেছেন, প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে শিশুরা পাঠশালায় আসতে শুরু করে এবং বিকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত পড়ানো হয় শিশুদের। পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ানোর জন্য তাদের প্রতিদিনই চকলেট বা বিস্কুট দেওয়া হয়। প্রথমে অল্পসংখ্যক শিশু পাঠশালায় এলেও এখন উঠান ভর্তি থাকে তাদের উপস্থিতি।
মান্তা সম্প্রদায়ের শিশু ইব্রাহিমের মা সরবানু বেগম বলছিলেন, ‘আমরা তো কখনো পড়ালেখা করিনি, আমাদের সন্তানকেও পড়ালেখা করানোর চিন্তাভাবনা ছিল না। পরে আমাদের শিক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে ওই পাঠশালায় সন্তানদের নেওয়া হয়েছে। তাদের খাতা-কলম ও বই— সবই ওইখান থেকে দেওয়া হয়। আমাদের কোনো টাকাপয়সা লাগে না।’
লোহালিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মোতালেব হাওলাদারের ছেলে শামীম (৪০)। তার পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
মুন্নী বলছিলেন, ‘শামীম ভাইয়ের উদ্যোগে ও পরিচালনায় পাঠশালাটি চলছে। আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুকে পাঠদান করছি। আমার বোনও এতে সহায়তা করে। বিদ্যালয়বিমুখ ও অক্ষরজ্ঞানহীন এসব শিশুর পাঠদান খোলা আকাশের নিচে চললেও দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে এখানে। তবে বর্ষা মৌসুমে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম প্রিন্সের ভাষ্য, ‘এই মহতী উদ্যোগ যারা নিয়েছেন, তারাও মহৎ। কেননা মান্তা সম্প্রদায়ের এই শিশুদের নিয়ে কজনের চিন্তা রয়েছে। ওনারা উদ্যোগ নিয়ে যে কাজটি করছেন, এতে যতটা সম্ভব আমরাও সহায়তা করব।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা জানিয়েছেন, সুবিধাবঞ্চিত এসব শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে তাদের পাঠদানের সুযোগ দেওয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানালেন, এসব শিশুকে সহায়তার জন্য নিকটবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বলা হয়েছে। তা ছাড়া বিকালে সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ যাতে তারা ব্যবহার করতে পারে, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




