রাজশাহী
শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা আটক

অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ওমর ফারুক। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহীর পবা উপজেলায় নয় বছরের এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের পাকারমাথা এলাকা থেকে আটক করা হয় তাকে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন।
আটককৃত জামায়াত নেতার নাম ওমর ফারুক (৪০)। তিনি বড়গাছী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন ও গ্রাম্য চিকিৎসক। তার বড় ভাই আবু বক্কর একই ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। অভিযুক্তের বাবা মজিবুর রহমান স্থানীয়ভাবে ক্বারী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিজ বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতেই শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ২৩ দিন আগে প্রতিদিনের মতো শিশুটি পড়তে গেলে একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীদের কৌশলে বিদায় করে দেন ওমর ফারুক। পরে শিশুটিকে একা পেয়ে যৌন হয়রানি করেন।
শিশুটির মায়ের অভিযোগ, শিক্ষকতার মতো একটি বিশ্বাসের জায়গায় এমন ঘটনার শিকার হতে হবে, তা তিনি কখনো কল্পনা করেননি। পরে বিষয়টি অভিযুক্তের বাবা মজিবুর রহমানকে জানালে বিষয়টি নিয়ে তিনি বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন বলেও রয়েছে অভিযোগ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন মা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওমর ফারুক ও তার পরিবার। ওমর ফারুকের দাবি, শিশুটি মূলত তার স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। ঘটনার দিন তার স্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণ করেননি। তার বাবা মজিবুর রহমানও অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বড়গাছী ইউনিয়নের আমির আব্দুর রহমান মিলন জানালেন, ওমর ফারুক ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রোকন। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বললেন, তাকে আটক করা হয়েছে বলে কিছুক্ষণ আগে শুনতে পেরেছি। তবে এ নিয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি।
এ বিষয়ে পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেছিলেন, শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক করা হয়েছে ওমর ফারুককে। ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা।




