এমন ফিটনেস ক্যাম্প নিয়মিত চান মেয়েরা

সংগৃহীত ছবি
মাত্র দুই সপ্তাহের ফিটনেস ক্যাম্প। তাতে ফিটনেস উন্নতির জন্য কার কোনদিকে নজর দিতে হবে তা বুঝতেই সময় পার। সেসব নিয়ে কাজ করার সময় হয়ে ওঠে খুব সামান্য। এই সামান্য সময় নয়, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটাররা ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে চান আরও বেশি। তাই অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির চাওয়া। নিয়মিত সুযোগ করে এই রকম ক্যাম্প যেনো হয়।
ফুটবল বিশ্বকাপের সময়টাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে হয়েছে জ্যোতিদের। ওই সময় না হলে নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ে সমর্থকদের ভালোবাসা পেতেন। অস্ট্রেলিয়া-ভারতের বিপক্ষে হারে মন খারাপের সময় পার হতো। আর শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল্পের জন্য হারাতে না পারার আফসোসও যোগ হতো।
সেই সময়গুলো কটিয়ে আবারও মাঠে ফিরেছেন নারী ক্রিকেটাররা। ১৯ থেকে ৩১ জুলাই ফিটনেস ক্যাম্প করেছেন সিলেটে। সামনের ৯ দিন বিশ্রাম। এরপর ১০ আগস্ট থেকে আবার ব্যাট-বল নিয়ে শুরু হবে স্কিল ক্যাম্প।
আসন্ন নারী এশিয়া কাপ, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ও এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছেন জ্যোতিরা। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এমন ফিটনেস ক্যাম্পকে স্বাগত জানালেন জাতীয় দল অধিনায়ক। আগামীর সময়কে জ্যোতি তার সন্তুষ্টি জানালেন এভাবে, ‘ক্রিকেটে এখন ফিটনেস এমন একটা অংশ যে ওটার ওপর নির্ভর করে আপনি কেমন খেলবেন। একমাত্র ফিট থাকলেওই আপনি পারফরম্যান্স করতে পারবেন, এটা দৃশ্যমান। ক্রিকেট বোর্ড এই জায়গাটায় নজর দিয়ে আমাদের খুব সুবিধা করেছে। আমরা দুই সপ্তাহে হয়তো সব দিক কাভার করতে পারিনি। কিন্তু বছর জুড়ে কি করতে পারি সেই ধারণা পেয়েছি।’
এই ‘ধারণা’ লিখে রেখেছেন সজীব দত্ত সাজু। নারী দলের নতুন এই ফিটনেস ট্রেইনার এই প্রথম নারী ক্রিকেটারদের নিয়ে এরকম ক্যাম্প করলেন। জ্যোতির কন্ঠে তার ব্যাপারে সন্তুষ্টি ঝরল। দেশি এই ট্রেইনারের কাজে বেশ খুশি জাতীয় দলের অধিনায়ক।
সাজুর চোখে ফিটনেসে সেরা মারুফা আক্তার। বাকিদের আরও উন্নতির সুযোগ আছে। এই প্রথম ক্যাম্প শেষে অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন এভাবে, ‘ সবাই সব সেশনে ভালো পরিশ্রম করেচে। ১৪ দিনে যতটুকু কাভার করা যায় করেছি। বিভিন্ন টেস্ট করে তথ্য-উপাত্ত রেখেছি। এরওপর সারা বছর আমরা কাজ করবো। এখানে আমরা ক্রিকেটারদের শরীর কোন কসরতে কতটা সহনশীল এসব দেখেছি। ইনজুরি এড়ানোর জন্য কি করা লাগে সে বিষয়ে কাজ করেছি। আমাদের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের চেয়ে অনেক ভালো, শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি। অনূর্ধ্ব-১৭, ১৯ থেকে এরকম ফিটনেস ক্যাম্প হয়ে আসলে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের আরও উন্নতি হবে।’
ফিটনেস ক্যাম্পে জ্যোতিদের বড় পাওয়া নিজেদের ‘ফিটনেস’ বোঝা। খুঁজে পেয়েছেন এরকম ক্যাম্প নিয়মিত হলে কোন দিক নিয়ে কতটুকু কাজ করতে হবে তা বের হবে। তাই বিসিবির কাছে জ্যোতিদের চাওয়া টানা খেলার মাঝে এরকম ক্যাম্পের সুযোগ। যেন পরবর্তী সিরিজ বা টুর্নামেন্টের আগে শরীরকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত করে মাঠে নামতে পারেন তারা।




