উখিয়া
বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ

বৌদ্ধ বিহারে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়েছে বুদ্ধমূর্তি। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা, বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর এবং তঞ্চঙ্গা সম্প্রদায়ের অন্তত চারটি পরিবারের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিরাজ করছে উত্তেজনা। নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছেনছড়ি এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
ভুক্তভোগী এবং এলাকার সরদার মং চৌধুরীর অভিযোগ, ২০০৭ সাল থেকে চলমান জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় নুরুল হকের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। তার দাবি, বন বিভাগের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা ছেনছড়ি বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর চালায়। এতে বিহারের অন্তত তিনটি বুদ্ধমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময় তঞ্চঙ্গা সম্প্রদায়ের অন্তত চারটি পরিবারের বাড়িঘরেও হামলা চালানো হয়।
মং চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোনো সময় আবার হামলার শিকার হতে পারি। প্রাণনাশেরও আশঙ্কা রয়েছে।’
ঘটনার পর পাওয়া কয়েকটি ছবিতে ছেনছড়ি বৌদ্ধ বিহারের ভেতরে ভাঙা বুদ্ধমূর্তি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চাকমা-তঞ্চঙ্গা স্টুডেন্ট কাউন্সিল (উখিয়া-টেকনাফ)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নেপাল চাকমা জানান, বৌদ্ধ বিহারে হামলার মতো ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় বসবাসরত আদিবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কানন বড়ুয়া বিশালও।
‘কক্সবাজার দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত। এ ধরনের ঘটনা সেই ঐতিহ্যের পরিপন্থী।’ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন উখিয়া থানার ওসি। প্রাথমিকভাবে এটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে জানা গেলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তার ভাষ্য, এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগে নাম আসা নুরুল হকের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।




