লিওনেল মেসি
বিদায়ী দিনের শুরু থেকে শেষ

ইতিহাসে লেখা থাকবে ২০২৬ সালের এই দিনে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে আর্জেন্টিনার জয়টির কথা। এটি আসলে একটি উপলক্ষ মাত্র। পুরো বিশ্বের নজর ছিল লিওনেল আন্দ্রেস মেসির বিদায়ের দিকে। এটা শুরু হয়েছিল মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের বাসে চড়ার সময় চোখের জলে এবং শেষ হয়েছিল দুটি অ্যাসিস্ট ও একটি গোলে। এরপর বিদায়ী উৎসবের ইতি টানেন মেসি এক আবেগঘন সমাপনী বক্তব্য দিয়ে।
বিদায়ী আবেগ ট্রেনিং কমপ্লেক্স থেকে
শুরু হয় এজিজা ট্রেনিং কমপ্লেক্স থেকে। খেলোয়াড়রা বাসে ওঠার সময় জড়ো হওয়া ভক্তদের ভিড় দেখে মেসি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। চোখের পানি কোনোরকেম ধরে রেখেছিলেন। এজিজা কমপ্লেক্স থেকে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ার সময় মানুষের সেই বিশাল জমায়েতের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন জাদুকর। এমন আবেগের বাড়াবাড়িতেই বেরিয়ে আসছে মেসির মানবিক চরিত্র। দর্শক-সমর্থকের হাসি-কান্না ফুটবল জাদুকরেরও হৃদয় ছুঁয়ে যায়!
এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের যাত্রা শেষে মেসির দল রিভার প্লেটের স্টেডিয়ামে পৌঁছায়। একে একে খেলোয়াড়েরা বাস থেকে নামেন আর মেসি নেমেছিলেন শেষ দিকে। মুখে চওড়া হাসি এবং চোখে-মুখে আবেগের মাখামাখি। এভাবেই ‘ফ্লি’ প্রবেশ করেন স্বাগতিকদের ড্রেসিংরুমে। হ্যাঁ, ফ্লি হলো তার ডাক নাম। কতো নামে যে তাকে ডাকা হয় ! মিনিট কয়েক পরে মাঠে নামেন। সেখানে আর্জেন্টিনা দলের ফিজিক্যাল ট্রেনার লুইস মার্টিনের সাথে উষ্ণ আলিঙ্গনের পর আলবিসেলেস্তের জার্সিতে শেষবারের মতো সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে ওয়ার্ম-আপ শুরু করেন মেসি।
জড়িয়ে ধরেন তিন সন্তানকে
মাঠে প্রবেশের সময় মেসির তিন সন্তান তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। মাঠে পা রাখার আগে তিনি তাদের জড়িয়ে ধরেন তাদের। এসময় তার সন্তানদের অনুপ্রাণিত করে বলেন, ‘ভালো খেলা, গোল করা, ম্যাচ জেতা... এভাবেই ফুটবলকে উপভোগ করতে হবে।’
দশম মিনিটের করতালির পর প্রতীক্ষিত পেনাল্টি গোল
ম্যাচ শুরু হওয়ার আগের আবেগঘন জাতীয় সংগীতে সুরে ভেসে গেলেন সবাই। এই আবেগ মেসিকে ছুঁয়ে গেছে ভালোভোবেই। ১০ মিনিট পর খেলায় সাময়িক বিরতি দেওয়া হয় যেন উপস্থিত সবাই বিদায়ী ফুটবল জাদুকরকে সম্মান জানাতে পারে। স্টেডিয়ামজুড়ে করতালির ঝড়, আতশবাজির আলোয় আলোকিত চারপাশ। বেনিনের খেলোয়াড়রাও মেসির সাথে দেখা করতে এগিয়ে আসেন।
ওদিকে গোল পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা দলের। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দেখা মেলে এবং শেষমেশ ম্যাচের স্কোরলাইন হয় ৩-০। তার মধ্যে প্রথম দুটো গোলই মেসির অ্যাসিস্টে করেন নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাস এবং শেষে নিজে জাতীয় দলের হয়ে শেষ গোলটি করেন পেনাল্টি থেকে। এরপর আলবিসেলেস্তের জার্সিতে নিজের শেষ উদযাপনটিও দেখে ফেলে মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম।
মেসির বিদায়ী ভাষণ
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর শুরু হয় বিদায়ী সংবর্ধনা পর্ব। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মেসি আবেগে ভেসে গেছেন, ‘জাতীয় দলে আর না ফেরাটা ভীষণ কষ্টের হবে। আমি সবসময় এখানে ফিরে আসতে চাইতাম, কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই এ জীবনের সেরা ঘটনা।’
আলবিসেলেস্তে জার্সিতে ইতি টানার ক্ষণে তিনি যোগ করেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবেই আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃখের দিনটি পার করছি। আমি জাতীয় দল এবং আপনাদের সবার কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর অনুভূতিটা আমি খুব মিস করব।’
এরপর অনাগত দিনের জন্য নিজের সমর্থনের ঘোষণা দিলেন, ‘তবে আমি আপনাদের পাশেই থাকব। এই ছেলেগুলোকে (খেলোয়াড়দের) এবং সামনের সমস্ত কিছুকে সমর্থন জানিয়ে যাব। আমরা সর্বদা একতাবদ্ধ।’





