ইনফান্তিনোর ভাগ্য এশিয়ার হাতে

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
আরও এক মেয়াদে ফিফার সভাপতি হওয়াটা সময়ের অপেক্ষা ছিল জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের পর এখন মার্চ পর্যন্ত টিকে থাকাই কঠিন তার। সদস্য অন্তত ৪৩টি দেশ লিখিতভাবে আবেদন করে জরুরি কংগ্রেস ডাকলে আস্থাভোটের মুখেও পড়তে পারেন তিনি। উয়েফার সমর্থনে ফিফা সভাপতি হলেও সেই ‘ঘরের সংগঠন’ সবার আগে বিরোধিতা করেছে তার। গতকাল পর্তুগিজ কিংবতন্তি লুইস ফিগোও পদত্যাগ করতে বলেছেন ইনফান্তিনোকে।
হাতের মুঠোয় থাকা সদস্যরা হাত ফসকে যাওয়ায় গতকাল মরক্কোয় ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন ইনফান্তিনো। দ্য টাইমস জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ফিফার সদস্য দেশের কাছে ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থন জানাতে অনুরোধ করছেন।
উয়েফার ৫৫ দেশের সবাই বিপক্ষে চলে েযতে পারেন ইনফান্তিনোর। কনকাকাফের ৪১ সদস্যের ৩৫টির আছে ভোটাধিকার। কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি নিজেও ফিফার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সম্ভাব্য সভাপতি পদপ্রার্থী। তাই ইনফান্তিনোর বিপক্ষে সোচ্চার তিনি।
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপে জানিয়েছেন, তাদের ৫৪টি সদস্য দেশই আগামী বছর মরক্কোয় হতে যাওয়া নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনকে সর্বসম্মতভাবে সমর্থন করছে। এফএফই প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশন কনমেবল অনেকটাই নীরব। ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের ১১টি সদস্য দেশের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার না হলেও তাদের বেশিরভাগ ফেডারেশনে ইনফান্তিনোর সমর্থন এখনো আছে।
তাই ইনফান্তিনোর ভাগ্য নির্ভর করছে এশিয়ার ৪৬টি দেশের ফেডারেশনের হাতে। এরই মধ্যে বোমা ফাটিয়েছেন জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইন। ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দিলে তাদের দেশের ফুটবলের সমস্যার সমাধানে ফিফার সহায়তার কথা বলা হয়েছিল বিশ্বকাপ চলার সময়। এটিকে প্রিন্স আলী বলেছেন ‘ব্ল্যাকমেইল’। ইরানের ক্ষোভ আরও বেশি। তাদের খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে যেতে হয়েছিল মেক্সিকোয়। কাতার, কুয়েতের মতো দেশগুলো আবার সমর্থন জানিয়েছে ইনফান্তিনোকে। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কা পাশে দাঁড়ালেও ভারত কোনো মন্তব্য করেনি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও প্রকাশ্যে বলেনি কিছু। তবে ফিফা ও এএফসির ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বাংলাদেশেরও। এশিয়া ভাগ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের একটা ভোটও হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ।
পক্ষে
কাতার, কুয়েত, লেবানন শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া মিসর, মরক্কো
বিপক্ষে
রোমানিয়া, ওয়েলস ইংল্যান্ড, ফিনল্যান্ড সার্বিয়া, সুইডেন, জর্ডান






