এবার আরেক কোরিয়ার সামনে ছন্নছাড়া বাংলাদেশ

আজ কি সেরা একাদশে ফিরবেন ঋতুপর্ণা চাকমা?
এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে তিন দিন আগে। খেয়ালি কোচ পিটার বাটলার উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ ব্যবধানে হারে শিষ্যদের নিবেদনে ঘাটতি দেখছেন। দলে ঐক্যের অভাবেই বড়ো হার- ম্যাচ শেষে এভাবেই দায় এড়ান ব্রিটিশ কোচ। এটা অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও বহুবার এমনটা করতে দেখা গেছে তাকে। কঠোর সমালোচনার মধ্য দিয়ে শিষ্যদের সেরাটা বের করে আনার এ এক পন্থা বাটলারের। যদিও আজ সেটা হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। আজ চোখ রাঙাচ্ছে আরেক কোরিয়া। মিয়ানমারকে ৫-০ ব্যবধানে হারানো দক্ষিণ কোরিয়ার সামনে আজ পরীক্ষা দিতে হবে বাটলারের শিষ্যদের। যাদের একেবারের পাড়ার দলে নামিয় এনেছিল উত্তর কোরিয়া।
বাংলাদেশ অবশ্য এ ম্যাচেও বিধ্বস্ত হওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। তাদের লক্ষ্য গ্রুপের শেষ ম্যাচ। যে ম্যাচে মিয়ানমারকে আরেকবার থমকে দিতে পারলে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে সুযোগ থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার। ওসাকার জে গ্রিন সাকাইয়ে বুধবার সকাল ১০টায় অনুশীলন সেড়েছে বাংলাদেশ দল। বৃষ্টির কারণে এই সেশনটা হয়নি পুরোপুরি। অল্প কিছু সময় গা গরম করে ফিরেছেন মারিয়া মান্ডার দল।
নাগাই স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে দলের অবস্থা ও প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন সহকারী কোচ আবুল হোসেন ও গত কয়েক ম্যাচ ধরেই স্কোয়াডে থাকলে খেলার সুযোগ না পাওয়া অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম। অভিজ্ঞদের বসিয়ে রাখাটা বাটলারের একটা রোগ। তরুণদের সুযোগ দিতে গিয়ে অভিজ্ঞদের বেঞ্চে রেখে মনোবল ভেঙে দেওয়া এ কোচের অভ্যাস। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের আক্রমণভাগে সেরা দুই অস্ত্র ঋতুপর্ণা চাকমা এবং মনিকা চাকমাকে সেরা একাদশে খেলাননি তিনি। অনভিজ্ঞ বাংলাদেশকে কাছে পেয়ে রুদ্রুমুর্তি ধারণ করে উত্তর কোরিয়া মার্চে ৫-০ গোলে জয়কেও পেছনে ফেলে।
এর আগে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৮-০ গোলে হেরেছিল। সেই রেকর্ড উত্তর কোরিয়া ভেঙে ফেলেছে। সহকারী কোচ আবুল অবশ্য এটাকেই বাস্তবতা মানছেন, ‘এটা সত্যি যে আমরা ভালো শুরু করতে পারিনি, তবে আমাদের সামনে এখনও দুটি ম্যাচ রয়েছে। আমাদের ভালো করার জায়গা আছে। আশা করি মেয়েরা পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।’
আগের ম্যাচের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভালো ফুটবল খেলার কথা বলেছেন আবুল, 'আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ দেখেছি এবং বিশ্লেষণ করেছি। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার খেলার ধরন প্রায় একই রকম। সেই অনুযায়ী আমরা কৌশল সাজিয়েছি। সত্যি বলতে, আমাদের এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মানের মধ্যে অনেক বড়ো পার্থক্য রয়েছে, তবে আমরা মাঠে একটি ভালো ম্যাচ খেলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।'
দলের মূল লক্ষ্য যে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ, তা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। আবুল হোসেন আরও যোগ করেন, 'শুরু থেকেই উত্তর বা দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল না। আমাদের নজর মূলত মিয়ানমারের দিকে। কারণ মিয়ানমার ও আমাদের দলের মান কাছাকাছি, তাই আমরা তাদের বিপক্ষে একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি।'
এক সময় দলের অন্যতম সেরা রাইটব্যাক ছিলেন শিউলি আজিম। অথচ এই ডিফেন্ডারকে এখন বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন বাটলার। এ নিয়ে দুঃখবোধ থাকলেও তা সামনে আনেনি শিউলি, বরং হারের ধাক্কা সামলে ইতিবাচক ফুটবল খেলার কথা বলেছেন তিনি, ‘সামগ্রিকভাবে আমাদের প্রস্তুতি ভালো। আগের ম্যাচে আমরা যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো আর না করার চেষ্টা করব। যেহেতু আমাদের পরের প্রতিপক্ষও অনেক শক্তিশালী, তাই আমাদের মূল চেষ্টা থাকবে গোল হজমের সংখ্যা কমানো। আমরা চেষ্টা করব কোনো গোল না খেতে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে।'



