সন্তানের জন্য কুকুরেয়ার ঝাঁকড়া চুল রাখার গল্প কতটা সত্য?

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে মার্ক কুকুরেয়ার কোঁকড়া চুল নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের এই তারকার চুলে কেটে ফেলারও অনুরোধ করেছেন অনেকে। কিন্তু কোনোভাবেই তিনি চুল কেটে ফেলতে রাজি নন। এরপর খবর বেরোয়, ছেলের জন্যই নাকি তিনি চুল কাটেন না। কিন্তু ককুয়েরার এই লম্বা চুলের পেছনে আসল কারণ কী?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কুকুরেয়াকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—যদি চুল কাটা এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়, তবে কোনটি বেছে নেবেন? জবাবে এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার হাসিমুখে জানান, এমন শর্ত থাকলে তিনি সব চুল কেটে ফেলতে রাজি আছেন। ইতিমধ্যেই স্প্যানিশ এই তারকা ‘লস ব্লাঙ্কোস’দের সঙ্গে ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। কুকুরেয়ার চুল নিয়ে ইন্টারনেটে নানা জল্পনা-কল্পনা প্রচলিত আছে। সেগুলোর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তত্ত্ব বেশ ডালপালা মেলেছে। কুকরেয়ার বড় ছেলে মাতেও অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। সে যেন মাঠে বাবাকে খুব সহজে খুঁজে পায়, সেজন্যই নাকি কুকুরেয়া চুল বাঁধেন না। মাঠে এসে খেলা দেখা বাদ দিয়ে মাতেও নাকি ইউটিউবে কার্টুন দেখে- এমন গুঞ্জনও আছে।
‘ট্রিবিউনা’ জানিয়েছে, এই স্পর্শকাতর গল্পটি মানুষের মন ছুঁয়ে গেলেও এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আসলে ছোটবেলা থেকেই মায়ের পরামর্শে লম্বা কোঁকড়া চুল রেখে আসছেন কুকুরেয়া। মাঠের ডজনখানেক শিশুর ভিড় থেকে নিজের ছেলেকে খুব সহজেই আলাদা করতে পারেন, সেজন্যই নাকি কুকুরেয়াকে চুল বড় রাখতে বলেছিলেন তার মা। সময়ের পরিক্রমায় মায়ের আদেশই এখন তার ট্রেডমার্ক হয়ে গেছে।
নিজের এই ট্রেডমার্ক লুক নিয়ে কুকুরেয়া বলেন, ‘মানুষ আমার চুল দেখেই সাথে সাথে চিনে ফেলে যে এটা আমি। এটি এখন আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। যদি চুল কেটে ফেলি, তবে মনে হবে আমি আমার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেছি।’





