মেসির হাতে ব্যালন ডি’অর দেখছেন লাউতারো

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন দুই আর্জেন্টাইন ইন্টার মিলানের গোলমেশিন লাউতারো মার্তিনেস এবং মহাতারকা লিওনেল মেসি। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ঘোষণা করা হবে বিজয়ীর নাম। ক্যারিয়ারের নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে থাকা মেসিকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী লাউতারো। নিজেও সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকলেও মেসিকেই তিনি সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখছেন।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর ম্যাচ-পরবর্তী মিক্সড জোন থেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন লাউতারো মার্তিনেস। সেখানে টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সে বিশ্বের সেরা, ফুটবল ইতিহাসের সেরা। যতদিন সে মাঠে থাকবে, ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা সবসময়ই থাকবে।’
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাব পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের কারণেই ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এসেছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। চলতি বিশ্বকাপে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। তবে স্পেনের কাছে ফাইনাল হারের পর গত ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এলএমটেন।
মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর বিষয়ে লাউতারো জানান, ‘আমরা জানতাম যে খবরটি একদিন না একদিন আসবেই। কিন্তু যখন এটি এলো, তখন বেশ কঠিন ও আবেগঘন হয়ে উঠেছিল। তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম এবং তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কিছু কথা বলেছিলাম। তিনি আমাদের জয়ী হতে শিখিয়েছেন ও সঠিক পথ দেখিয়েছেন। তিনি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি। প্রতিদিনের এই দারুণ মুহূর্তগুলো আমার ক্যারিয়ার এবং জীবনের অনেক বড় পাওয়া, যা আমি সবসময় মনে রাখব।’ অন্যদিকে, ক্লাব ফুটবলেও দুর্দান্ত এক সময় কাটাচ্ছেন লাউতারো মার্তিনেস। ইন্টার মিলানের জার্সিতে ৩০ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করে দলটিকে সিরি আ ও কোপা ইতালিয়া জেতানোর পাশাপাশি কাতার থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার করা সেই নাটকীয় গোলটি আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে রয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ৭০তম ব্যালন ডি’অর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের বাইরে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতার নিয়মে পরিবর্তন এনে ইউরোপের বাইরে খেলা ফুটবলারদের জন্যও এই পুরস্কারের দরজা উন্মুক্ত করায় বিশ্বজুড়ে ফুটবলের এই মহাতারকাদের লড়াই এখন আরও বেশি রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।





