ফ্লিকের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় 'কাঁটা' সিমিওনে

সংগৃহীত ছবি
লা লিগার শীর্ষস্থান দখলের লড়াইয়ে সোমবার মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই ম্যাচের আগে হানসি ফ্লিকের জন্য বড় দুশ্চিন্তার নাম দিয়েগো সিমিওনে। পেশাদার কোচিং ক্যারিয়ারে জার্মান কোচকে তিনবার হারিয়েছেন শুধু এই আর্জেন্টাইন। সোমবার আতলেতিকো জিতলে ফ্লিককে চারবার হারানো প্রথম কোচ হয়ে যাবেন সিমিওনে। ফ্লিকের বিপক্ষে এমন কীর্তি আর কেউ গড়তে পারেননি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার মতে, মেত্রোপলিতানোতে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ শুরুর আগেই ফ্লিকের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সিমিওনে।
ম্যাচটির গুরুত্ব অবশ্য এখানেই শেষ নয়। আগামী আন্তর্জাতিক বিরতির আগে লিগের শীর্ষে ওঠার সুযোগ আছে সিমিওনের দলের সামনে। পাশাপাশি স্প্যানিশ লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারেন তিনি। লেভান্তের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে কিংবদন্তি কোচ লুইস আরাগোনেসের ৩৪৪ জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন সিমিওনে। তবে সেই রেকর্ডে পৌঁছাতে আরাগোনেসের চেয়ে ১৯২টি ম্যাচ কম খেলেছেন তিনি।
ফ্লিক ও সিমিওনের মুখোমুখি হওয়াটা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দুজনের দেখা হয়েছে মোট ১২ বার। এর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের কোচ থাকাকালে ফ্লিকের বিপক্ষে দুবার খেলেছেন সিমিওনে। বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও ১০ বার মুখোমুখি হয়েছেন তারা।
পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে ফ্লিক। সাতটি জয় ও দুটি ড্র আছে তার। তবে জার্মান কোচকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন সিমিওনেই।
বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফ্লিককে কয়েকটি বড় ধাক্কা দিয়েছেন আতলেতিকো কোচ। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মন্টজুইকে দুই দলের প্রথম দেখাতেই শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-১ গোলে জিতেছিল আতলেতিকো। বার্সেলোনার মাঠে লা লিগায় সেটিই ছিল সিমিওনের প্রথম জয়।
তবে ফ্লিকের সবচেয়ে বড় দুটি হতাশা এসেছিল গত মৌসুমে। প্রথমে কোপা দেল রের ম্যাচে প্রথম ৪৫ মিনিটেই বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল আতলেতিকো। সেই জয়ে ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায় তাদের।
এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারায় আতলেতিকো। পরের লেগেও সেই ব্যবধান ঘোচাতে পারেনি ফ্লিকের দল।
সিমিওনের আগে ফ্লিককে তিনবার হারানো কোচদের খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে তার কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে। বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগে জার্মানির নিচের সারির লিগগুলোতে কাজ করার সময় এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল ফ্লিকের।
২১ বছর পেছনে গেলে পাওয়া যায় রবিন ডুটকে। ২০০৫-০৬ মৌসুমে স্টুটগার্টার কিকার্সের কোচ ছিলেন তিনি। হফেনহাইমের দায়িত্বে থাকা ফ্লিককে তিনবার হারিয়েছিলেন ডুট। তার অধীনেই হফেনহাইম জার্মানির তৃতীয় বিভাগ রিজিওনাললিগা সুদে উন্নীত হয়েছিল।
বায়ার্ন মিউনিখের দ্বিতীয় দলের কোচ হিসেবে হারমান গেরলান্ডও ফ্লিককে তিনবার হারিয়েছিলেন। প্রায় ১৫ বছর পর জার্মান জাতীয় দল ও বায়ার্নে ফ্লিকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি।
এর দুই মৌসুম আগে শোয়াইনফুর্ট ০৫ ও কিকার্স অফেনবাখের দায়িত্বে থাকা হান্স-ইয়ুর্গেন বয়জেনও ফ্লিককে তৃতীয়বারের মতো হারানোর কীর্তি গড়েন।
এ ছাড়া ২০০১-০২ ও ২০০২-০৩ মৌসুমে ভেইহেনের কোচ গের্ড শভিকার্ট ফ্লিককে হারিয়েছিলেন। পরের মৌসুমে এসভি ০৭ এলভার্সবার্গের দায়িত্বেও একই কীর্তি গড়েন তিনি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লিকের বিপক্ষে তিন জয়ের তালিকায় থাকা কোচদের মধ্যে রয়েছেন তারাও।
তবে আজকের ম্যাচে জিতলে এই তালিকার সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন সিমিওনে। ফ্লিকের বিপক্ষে চার জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি লিগের শীর্ষস্থানেও ওঠার সুযোগ থাকবে তার সামনে।



