মোহাম্মদ আমির
পাকিস্তান চ্যাপ্টার ক্লোজ করে দিয়েছি

পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমিরের প্রত্যাবর্তন নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানারকমের জল্পনা তৈরি হয়। আসন্ন ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তানের জার্সিতে তার প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন আবারও হালে পানি পেয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন করায় জন্মভূমির হয়ে খেলার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার। তিনি নিজেই জানালেন এই তথ্য।
২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিয়েছিলেন আমির। তবে ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তার কামব্যাকের গুঞ্জন নিয়মিতই চাউর হচ্ছিল। সেই জল্পনা নিজেই চিরতরে ধামাচাপা দিলেন এই পেসার। স্ত্রী নার্গিস খানের সুবাদে ব্রিটিশ পাসপোর্ট ও নাগরিকত্ব পাওয়ার কারণে এখন থেকে পাকিস্তান সুপার লিগসহ (পিএসএল) অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও তাকে ওভারসিজ বা বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হবে। ক্রিকেট ইউটিউবার ফুরকান ভাট্টিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার করে মোহাম্মদ আমির বলেন, ‘আমি এখন একজন ব্রিটিশ নাগরিক। আপনি যখন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দ্য হান্ড্রেডের মতো টুর্নামেন্টগুলোয় স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলবেন, তখন আপনাকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে হবে। সেখানে উল্লেখ থাকে যে, আপনি অন্য কোনো দেশের খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে পারবেন না। সুতরাং, আমার পাকিস্তান চ্যাপ্টার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লোজ করে দিয়েছি।’
২০০৯ সালে পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া আমির দেশের হয়ে ৩৬টি টেস্ট, ৬১টি ওয়ানডে এবং ৬২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। টেস্টে ১১৯টি, ওয়ানডেতে ৮১টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৭১ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে তিনটি আইসিসি বিশ্বকাপ (২০০৯, ২০১০ এবং ২০১৯) খেলার গৌরব রয়েছে তার। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫/৩০ সহ মোট ১৭ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। এছাড়া ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আমিরের সেই বিধ্বংসী স্পেল পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। ফাইনালে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ানের মতো টপ অর্ডার ব্যাটারদের ফিরিয়ে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি, যা পাকিস্তানকে এনে দিয়েছিল ঐতিহাসিক শিরোপা। সেই আমিরের ক্যারিয়ারও কলঙ্কিত হয়েছিল ফিক্সিংয় কেলেঙ্কারিতে।









