লর্ডস টেস্ট
লরেন্সের ব্যাটে সেঞ্চুরির চেয়েও মূল্যবান ফিফটি

লর্ডসের পেস-সহায়ক উইকেটে যখন টেস্ট ব্যাটারদের জন্য টিকে থাকাই দায়, ঠিক তখনই এক অসাধারণ ইনিংসে ইংল্যান্ডকে চালকের আসনে বসিয়েছেন ড্যান লরেন্স। বৃষ্টি ও ভেজা উইকেটে চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে বড় লিড এনে দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। তার অপরাজিত ৫০ রানে ভর করে এখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
ম্যাচের তৃতীয় দিনটি ছিল মূলত বোলারদের রাজত্ব। লর্ডসের উইকেটের অসমান বাউন্স আর তীব্র সুইংয়ের সামনে একে একে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ টপ অর্ডার ব্যাটাররা। স্বাগতিকরা যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন উইকেটে আসেন ড্যান লরেন্স। প্রথম ১৪ বলে তার শটগুলো ছিল বেশ নড়বড়ে, যা দিনের খেলা শেষে লরেন্সও স্বীকার করেছেন। এতে ঘাবড়ে না গিয়ে লরেন্স শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ।
মোহাম্মদ আলীর বলে এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে হাত খোলেন ২৯ বছর বয়সী লরেন্স। ৬৬ বলে তুলে নেন ফিফটি। পরিসংখ্যানের পাতায় এটি লরেন্সের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি। এর আগে ওপেনিংয়ে ব্যর্থতার দায়ে দল থেকে ছিটকে গেলেও কাউন্টি ক্রিকেটে সারের জার্সিতে দারুণ পারফর্ম করে দলে ফিরেছেন তিনি। বর্তমান কোচিং প্যানেল ও নির্বাচকদের আস্থার পুরো প্রতিদানই দিচ্ছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার।
সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের অধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরের নানা সমালোচনার মাঝে লরেন্সের এই ইনিংসটি ইংলিশ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। বর্তমান সিরিজে তাকে মূলত অলরাউন্ডার হিসেবে দলে নেওয়া হলেও উইকেটের চরিত্রের কারণে অফ স্পিন বোলিং করার সুযোগ হয়নি। তবে বল হাতে নামতে না হলেও ব্যাটিংয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে দলের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন লরেন্স।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হওয়ার আগে ইংল্যান্ড ৩৫৭ রানের পাহাড়সম লিড নিয়েছে। দিনশেষে তাদের স্কোর ৭ উইকেটে ১৭৭ রান। এই টেস্ট জিতলে কেবল সিরিজই নিশ্চিত হবে না, বরং দীর্ঘ দুই বছর পর ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে বড় কোনো সাফল্য পাবে ইংলিশরা। আর সেই সাফল্যের নেপথ্যে ড্যান লরেন্সের এই লড়াকু ইনিংসটি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।









