ক্যাঙারুভোজ!
- অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়

প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন তাসকিন। ছবি: মোশারফ হোসেন
‘বৃষ্টি ছাড়া এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে আর কেউ বাঁচাতে পারবে না’— গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে বৃষ্টিতে ম্যাচ বন্ধের সময় ক্রিকইনফোর কমেন্ট বক্সে এক বাংলাদেশির মন্তব্য। একটা সময় এমন কথা চলত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেলায়। গতকাল তা পাল্টে গেছে অস্ট্রেলিয়ার দিকে। যে সাহস ও অহমিকা নিয়ে ওই ভক্তের উক্তিটি করেছেন, মাঠে ঠিক সেভাবেই অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
এতদিন ক্যাঙারুদের সঙ্গে ওয়ানডে জয় ছিল এটাই। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার ২-০-তে সিরিজই জিতল টাইগাররা। দেশের ক্রিকেটে যা নতুন ইতিহাস। ওয়ানডেতে এখন শুধু ইংল্যান্ড ছাড়া আর সব দলের সঙ্গেই সিরিজ-কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। সিরিজের বাকি এক ম্যাচেও জয় ধরা দিলে অজিদের ধবলধোলাই করার ইতিহাসও লেখা যাবে।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে স্বাগতিকদের জয় ৫ উইকেটে। আগে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া খেলা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে। বৃষ্টির পর আর তাদের ইনিংস ফেরানো সম্ভব হয়নি। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। ৬ ওভার হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়া এই সেদিনও পাকিস্তানের কাছে সিরিজ হেরে এসেছে। এই দলকে হারানো ফর্মে থাকা বাংলাদেশের জন্য যেন ‘নিত্য’ ব্যাপার। কিন্তু এই অংশটুকু পাশে রাখা হোক। অস্ট্রেলিয়া তো অস্ট্রেলিয়া-ই। তাদের বিপক্ষে সিরিজ জেতা যেনতেন ব্যাপার নয়!
অস্ট্রেলিয়া হয়তো অজুহাত দিতে পারে— ‘আমাদের সেরা খেলোয়াড়রা ছিলেন না।’ কিন্তু ট্রাভিস হেড, জস হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স বা মিচেল মার্শদের তো আর বাংলাদেশ বিশ্রাম দিতে বলেনি!
অস্ট্রেলিয়াই তাদের সেরা তারকাদের দলে রাখেনি। বাংলাদেশকে ঠিক ভারতের মতো গুরুত্ব দেয়নি।
তার মাশুল দিতে হলো হাতেনাতে। বাংলাদেশের মাটিতে ২১ বছর পর খেলতে এসে অস্ট্রেলিয়া টের পেল ২০১১ আর এখনকার বাংলাদেশ এক নয়। জেনে গেল বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হয়নি।
আর তাই ঘরের মাঠে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি পালক। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মধ্য দিয়ে নিজেদের মাঠে টানা পাঁচ সিরিজও নিশ্চিত হলো। সবশেষ ২০১৫-১৬ মৌসুমে টানা পাঁচ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব ছিল বাংলাদেশের।
বৃষ্টির পর রান তাড়ায় নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। বোর্ডে রান ওঠার আগেই হারাতে হয় তানজিদ তামিমকে। নাজমুল হোসেন শান্তকেও আউট দিয়ে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে এলবিডব্লিউ আউট থেকে সে যাত্রায় রক্ষা পান নাজমুল। এরপর দলকে কক্ষপথে আনার পালা। সেই কাজটা দারুণভাবে সেরেছেন নাজমুল ও সৌম্য। আউট হওয়ার আগে দুজনের ব্যাট থেকেই এসেছে সমান ৪২ রান। জুটি ৮৬ রানের। এ জুটিতে ম্যাচের লাগাম বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। লিটন দাস ২১ করে ফিরলেও তাই বিপদে পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের।
পরে তাওহীদ হৃদয় একপ্রান্ত আগলে বাংলাদেশকে জয়ের পথ দেখান। ৫৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। তার সঙ্গে ২২ বলে ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন মিরাজ। গত ম্যাচের সেরা মোসাদ্দেক ১৫ রানে ফিরেছিলেন।
ব্যাটারদের আগে অজিদের লজ্জা দেওয়ার নায়ক ছিলেন বোলাররা। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয়টিতেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত শ্বাস নেওয়ার সুযোগই দেননি তারা।
দিন শেষে মোস্তাফিজ ও তাসকিন দুজনই তিনটি করে এবং বাঁহাতি স্পিনার তানভীর দুটি উইকেট নেন। পাকিস্তান সফরে ওয়ানডে সিরিজ হারের হতাশা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের বিপক্ষেও তাদের অসহায় দেখাল। দুই ম্যাচেই টাইগারদের বোলিংয়ের সামনে দিশাহারা ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দলটি।




