বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের চাপে বিশ্ব অর্থনীতি, তলানিতে প্রবৃদ্ধি

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি চলতি বছরে কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে এটি মহামারির পর সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও ঋণের খরচ বাড়বে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক তাদের অর্ধবার্ষিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ দেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। সংস্থাটি আগের হিসাবে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করেছিল।
প্রতিবেদন বলছে, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজনিত অস্থিরতা কিছুটা কমলেও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ২০২৫ সালে যা ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, যুদ্ধের কারণে সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এ বছর সার বা ফার্টিলাইজারের দাম সর্বোচ্চ ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন ও কৃষি খাতে তৈরি হবে বড় চাপ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত ও চীন বাদে, গত এক দশকে উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে ব্যবধান কমাতে পারেনি। সংস্থাটির ভাষায়, ‘বড় কোনো অস্বাভাবিক অগ্রগতি ছাড়া ২০২০-এর দশক পরিণত হতে পারে ‘হারানোর দশকে’।’
সংস্থাটি জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার জন্য আগামী ১৫ মাসে দেয়া হবে ১০ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দ্রমিত গিল প্রতিবেদনের ভূমিকায় বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, পরিষ্কার জ্বালানি বিপ্লব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা এখনো ধনী দেশগুলোতেই বেশি কেন্দ্রীভূত। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের ভাষা এখনো এসব প্রযুক্তির ডেটা ব্যবস্থায় যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব পায় না। এতে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সরকারি ঋণের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১০ সালের পর এসব দেশের মোট সরকারি ঋণ ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে পৌঁছেছে ৭০ শতাংশে। ঋণের পরিমাণ যত বেশি হয়, সুদের হারও তত বাড়ে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ, ঋণ সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।




