এশিয়ান গেমস
তামাটে সাফল্য ছোঁয়ার সুযোগ

সংগৃহীত ছবি
নাগোয়ার আকাশ থেকে সোনা রোদ মিলিয়ে গেছে পাকিস্তানের কাছে হেরে। রূপালি হাওয়া শরীরে মাখার সুযোগও শেষ ব্যাটে-বলে ব্যর্থতায়। তবে আগামীকাল বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলের সামনে সুযোগ তামাটে সাফল্য ছোঁয়ার। নিশিন শহরের করোগি স্পোর্টস পার্ক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে লঙ্কাবধ কাব্য লিখতে পারলেই অন্তত কিছু সঙ্গী করে দেশে ফিরতে পারবেন লিটন দাসরা। সুযোগ থাকবে পোডিয়ামে দাঁড়ানোর।
দেখতে দেখতে এশিয়ান গেমসের বিদায় ঘন্টা বাজতে চলেছে। পরশু পর্দা নামবে ২০তম গেমসের। এখন অবধি পদক তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠেছে ভাগ্য জোড়ে। উশুকা জিন্নাত আক্তার ব্রোঞ্জ পেয়েছেন কোনো ম্যাচ না জিতে। সেটাই এখন পর্যন্ত ২৬০ জনের বাংলাদেশ বহরের একমাত্র প্রাপ্তি। লিটনরা যদি জেতেন, তবে অন্তত বলার মতো একটা অর্জন নিয়ে ফিরবে বাংলাদেশ।
এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট সংযুক্তির পর থেকে প্রতিবারই পুরুষ ও নারী বিভাগে পোডিয়ামে পা রেখেছে বাংলাদেশ। এবারও সেটা হচ্ছে না। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ফিরে গেছে শূণ্য হাতে। ২০১০ গুয়াংজু গেমসে সোনাজয়ী বাংলাদেশ, ২০১৪-তে জেতে রূপা। ২০২৩ হাংঝু গেমসে রঙ বদলে সেটা হয় ব্রোঞ্জ। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হারার পর এবার ক্রিকেটারদের সামনে পদক ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।
অনভিজ্ঞ পাকিস্তানের কাছে হারটা হজম করা কষ্টকর ছিল। অভিজ্ঞতায় ঠাসা মোস্তাফিজুর রহমানের খরুচে বোলিং আর টপ অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে বলতে গেলে জয় উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। তাতেই আনকোড়া শ্রীলঙ্কাও এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছিল ভারত। মাত্র ৪৫ রানে গুটিয়েছিল শ্রীলঙ্কার ইনিংস। তারপরও নিঃসংশয় হওয়া যাচ্ছে না বাংলাদেশকে নিয়ে। তাদের সুর-তালটাও যে কেটে গেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
ব্রোঞ্জপদক নির্ধারণী ম্যাচ শেষে একই মাঠে হবে স্বর্ণপদকের লড়াই। যেখানে মুখোমুখি হবে চির বৈরী ভারত ও পাকিস্তান।
এদিকে, আজ গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে হয়েছে স্নায়ুর লড়াই। যে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। নবমস্থান নির্ধারণী ম্যাচে তারা সিঙ্গাপুরকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে ২-১ ব্যবধানে। নির্ধারিত সময় ১-১ থাকার পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। তাতে জিতে এশিয়াডে অভিষেক খুব একটা খারাপ হয়নি নারী হকি দলের।
দশম মিনিটে দুর্দান্ত ফিল্ড গোলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন আইরিন আক্তার রিয়া। প্রথমার্ধেও সে লিড ধরে রাখে বাংলাদেশ। তবে ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে সমতায় ফেরে সিঙ্গাপুর তৌ লি মিনের গোলে। নির্ধারিত সময় শেষ হলো ১-১ ড্রয়ে, ম্যাচ গড়াল টাইব্রেকারে। সেখানে চাপের মুখেও ঠান্ডা মাথায় জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ।
গলফ কোর্সে বাজে একটা দিন কাটিয়েছেন বাংলাদেশের তিন গলফার। সিদ্দিকুর রহমান পারের চেয়ে তিন শট বেশি খেলেছেন। তৃতীয় রাউন্ড শেষে তিনি নেমে গেছেন ২৯তম স্থানে। আরও বড় পতন বাদল হোসেনের। যৌথভাবে ১৬তম স্থান থেকে নেমে গেছেন ৩৩তম স্থানে, তৃতীয় রাউন্ডে খেলেছেন পারের চেয়ে ৬ শট বেশি। জামাল হোসেন পারের চেয়ে চার শট বেশি খেলে আছেন যৌথভাবে ৩৪তম স্থানে। দলগত ইভেন্টে নবম থেকে ১২তম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ।
নারীদের জুডোর ৭৮ কেজি ওজন শ্রেণীতে উজবেকিস্তানের বারচিনয় কদিরোভার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছেন অবনিকা হাসান। কুস্তিতে প্রথম ম্যাচ জিতলেও সে ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি আব্দুস সাত্তার। ছেলেদের ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইলে কোয়ালিফিকেশনে নেপালের রাম কিশোর যাদবকে হারানোর পর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে সৌদি আরবের আব্দুল লতিফ আলবাকরির কাছে বাজে ভাবে হেরে থেমে যায় তার পথচলা।



