অর্জুনের ক্রিকেট মেধা আর নিখুঁত ইয়র্কারে মুগ্ধ অশ্বিন

সংগৃহীত ছবি
বিখ্যাত বাবার ছেলে হয়ে ক্রিকেটে এখনও নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি অর্জুন টেন্ডুলকার। জাতীয় দল তো বহুদূর, আইপিএলেও সুযোগ হয় না নিয়মিত। গতকাল শনিবার রাতে একানা স্টেডিয়ামে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের শেষ ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে চলতি আইপিএলে প্রথমবার নামলেন এই বাঁহাতি পেসার। প্রায় দুই মাস বেঞ্চে বসে থাকার পরও চাপের মুখে অর্জুন যেভাবে নিজের ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা ও মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন স্বীকার করেন, কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত তুলনার কারণে অর্জুনের পথচলাটা মোটেও সহজ নয়। তবে পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে অর্জুন তার কঠোর পরিশ্রম ও লড়াই করার মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছেন।
অশ্বিন বলেন, ‘আমি তার স্কিল নিয়ে কথা বলব না, কারণ বাবার সঙ্গে তুলনার কারণে অর্জুনের লড়াইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে আমি তার দুটি গুণের কথা বলব। অর্জুন কঠোর পরিশ্রমী এবং মাঠের লড়াই থেকে কখনো পিছিয়ে যায় না। বাউন্ডারি খাওয়ার পরও সে ব্যাটারের দিকে কড়া চোখে তাকায় এবং আরও আগ্রাসীভাবে কামব্যাক করে। এই কৃতিত্ব ওকে দিতেই হবে।’
ম্যাচে পাঞ্জাবের ওপেনার প্রভসিমরন সিংয়ের শরীর লক্ষ্য করে বোলিং করার যে পরিকল্পনা অর্জুন সাজিয়েছিলেন, তার প্রশংসা করেন অশ্বিন। নিজের প্রথম ওভারেই একটি দারুণ বাউন্সারে প্রভসিমরনের ব্যাটের ওপরের কানায় বল লাগিয়েছিলেন অর্জুন, কিন্তু উইকেটকিপার তথা লক্ষ্ণৌ অধিনায়ক রিশাভ পান্ত ক্যাচটি মিস করেন। পরের ওভারে শ্রেয়াস আইয়ার ও প্রভসিমরনের কাউন্টার অ্যাটাকে চার-ছক্কা খেলেও দমে যাননি অর্জুন।
নিজের তৃতীয় ওভারে আইয়ারের কাছে টানা দুটি চার খাওয়ার পর অর্জুন অবশেষে সাফল্যের দেখা পান। দারুণ একটি ইয়র্কারে তিনি প্রভসিমরনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। অশ্বিন বলেন, ‘অর্জুনের ওই ইয়র্কারটি আসলেই রিভার্স সুইং করেছিল। আমি নেটে ওর প্রচুর ইয়র্কার অনুশীলনের ভিডিও দেখেছি। তবে প্রভসিমরনের দুর্বলতা বুঝে যেভাবে সে বডিলাইন বাউন্সার ও ইয়োর্কার এক্সিকিউট করেছে, মৌসুমের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা যেকোনো বোলারের জন্য তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
অর্জুনের এই লড়াকু বোলিংয়ের রাতেও লক্ষ্ণৌ ম্যাচটি বাঁচাতে পারেনি। ১০ম পরাজয় নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকেই আসর শেষ করেছে রিশাভ পান্তের দল।








