বিপিএল ফিক্সিংয়ে তিনজনের শাস্তি
- একজন সাবেক বিসিবি পরিচালক
- একজন কাউন্সিলর
- একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা

ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত সাবেক পরিচালক শামীম ও অডিট কাউন্সিলর রাকিবুল। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর ১২তম আসরে আইসিসির দুর্নীতি দমন নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা ভঙ্গে ৩ জনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ১৪ দিনের ভেতর আপিল করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত এই ৩ জন হচ্ছেন ২০২৫-২৬ সময়কালে বিসিবির পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা মুখলেছুর রহমান শামীম, বিসিবির সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিসিবির সাবেক কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি। তাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটা, তথ্যপ্রমাণ লোপাটসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ। দোষীদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নোটিসপ্রাপ্তির ১৪ দিনের ভেতর তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হয়ে যাওয়া বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগ থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন মুখলেছুর রহমান শামীম। বোর্ড পরিচালক হিসেবে পেয়েছিলেন অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদও। তবে গণমাধ্যমে তার ম্যাচ পাতানোর বার্তালাপ ফাঁস হলে পদত্যাগ করেন শামীম, পরবর্তী সময়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলে শেষ হয় তার বিসিবি পরিচালক অধ্যায়।
দুর্নীতি দমন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি এবং বিসিবির সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও ফিক্সিংয়ের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৪টি। আইসিসির দুর্নীতি দমন ধারাগুলোর ২.১.১, ২.১.৪, ২.৪.৪ ও ২.৪.৭ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে, যে অভিযোগগুলো হচ্ছে ম্যাচ পাতানোর চেষ্টা, ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে অন্য কাউকে জড়িত করার চেষ্টা, ম্যাচ পাতানোর প্রচেষ্টা সম্পর্কে জেনেও আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকে না জানানো ও তদন্তকাজে বাধা প্রদান। বাকি দুইজনের ক্ষেত্রেও কমবেশি একই অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষে বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন কোড অব কনডাক্ট অনুযায়ী, ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ আজীবন ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা এবং এর পাশাপাশি মোটা আর্থিক জরিমানা করার নিয়ম রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব ও মাত্রা বিবেচনা করে ১ থেকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়ার বিধান আছে।
এর আগে দুর্নীতি তদন্তে ৯০০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনের তথ্যপ্রমাণসাপেক্ষে বিপিএলের বিভিন্ন ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে একাধিক সন্দেহজনক ঘটনা চিহ্নিত করা হয়। সেই সব ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তি পেয়েছেন ক্রিকেটার অমিত মজুমদারসহ বেশ কয়েকজন ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।





