পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে হাসাহাসি, চটেছেন নাকভি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি এবং দলের ভেতরে চলমান চরম টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সাধারণ দর্শক থেকে সাবেক ক্রিকেটাররা পর্যন্ত ট্রোল করতেও ছাড়ছেন না। এই পরস্থিতিতে সমালোচকদের কঠোর ভাষায় জবাব দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে শোচনীয় হারের পর দল থেকে সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হকসহ সাতজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে হঠাৎ বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া কোচিং প্যানেলেও আনা হয় পরিবর্তন। সিরিজের মাঝপথে এমন ছাঁটাইয়ের ঘটনা নজিরবিহীন! তার ওপর ইমাম উল হকের ইনজুরির অভিনয় নিয়ে তদন্ত করছে পিসিবি। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সাবেকরাই বলছেন, দেশটির ক্রিকেট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নাকভি অবশ্য এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিসিবি প্রধান স্বীকার করেছেন যে টেস্ট ক্রিকেটে দলের পারফরম্যান্স অত্যন্ত খারাপ। তবে এটিকে পুরো পাকিস্তান ক্রিকেটের পতন হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা নামিবিয়ার কাছে হেরেছে। ভারত আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরেছে। তাদের ক্রিকেট কি শেষ হয়ে গেছে?’
দলের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর সাতজন খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে নাকভি বলেন, কোনো খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগতভাবে ছেঁটে ফেলা বোর্ডের উদ্দেশ্য নয়, বরং দলের স্বার্থেই পরিবর্তন আনা জরুরি ছিল। তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আঘার মতো একজন খেলোয়াড় দারুণ। কিন্তু সে যদি ছন্দে না থাকে, তবে সেটার পেছনের কারণ খুঁজতে হবে। তাই কাউকে বাদ দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং পারফর্ম না করলে পরিবর্তন আনাই লক্ষ্য।’
সাদা বলে সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পিসিবি প্রধান দাবি করেন, নতুন কোচিং সেটআপ আসার পর পাকিস্তান ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম থেকে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। তার ভাষায়, ‘নতুন কোচিং সেটআপ আনার পর ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে আমরা আট থেকে পাঁচে উন্নীত হয়েছি। টি-টোয়েন্টিতে আমরা ছিলাম নয় নম্বরে, আর এখন দল ছয়ে অবস্থান করছে। আমাদের জয়ের হার ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রান এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করেছে পাকিস্তান। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে তৃতীয় তথা শেষ টেস্ট। টেস্ট ক্রিকেটের ভঙ্গুর দশা নিয়ে নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করে নিলেও পিসিবি প্রধানের এই সাফাই ও অন্য দেশের হারের তুলনা টেনে আনা নিয়ে ইতিমধ্যে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।







