৪০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মওকুফ বিসিবির

সংগৃহীত ছবি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করায় সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান ঘটেছে। বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কেনা একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দলের ম্যাচ সম্প্রচার করতে না পারায় ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল আইসিসির কাছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৩০ মিলিয়ন ডলার প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
আইসিসির সভায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে সভাপতি তামিম ইকবাল উপস্থাপিত ব্যাখ্যা ও যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আইসিসি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। শেষ পর্যন্ত সম্প্রচার স্বত্বসংক্রান্ত প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের দাবি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। অর্থাৎ, ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থই মওকুফ করা হয়েছে। আগামীর সময়কে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন বিসিবির একজন পরিচালক।
অবশ্য গত ফেব্রুয়ারিতেই বিসিবিকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না বলে বিবৃতি দিয়েছিল আইসিসি। একই সঙ্গে ২০৩১-এর আগে একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয় বিবৃতিতে। কিন্তু সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ ক্ষতিপূরণ মওকুফ করা হবে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এতদিনে তা পরিষ্কার হলো।
বাংলাদেশের ম্যাচ সম্প্রচার না হওয়ায় তৈরি ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করে স্বত্ব কেনা প্রতিষ্ঠান। তাদের বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় নির্ধারিত সম্প্রচার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। সেই ক্ষতি যেন বিসিবি থেকে নেওয়া হয় সেই দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইসিসির এক সভায় বিষয়টি আলোচনায় ওঠে। সেখানে বিসিবি সভাপতি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন, কোন পরিস্থিতি, কী ধরনের বাস্তবতা এবং কী কারণে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি।
সভায় তামিম বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিভিন্ন বাস্তবতা, সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনের কারণগুলো আইসিসির সামনে তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি দেন, এটি কোনো ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তে বিসিবি বড় ধরনের আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসির এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের উপস্থাপিত ব্যাখ্যা ও বাস্তব পরিস্থিতির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইসিসি বা বিসিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।




