১৬১০ উইকেট শিকারি চার দানবের মুখোমুখি শান্ত বাহিনী

ছবি: বিসিবি
দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে গেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় ডারউইনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। আজ বুধবারই একাদশ ঘোষণা করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অনেকদিন পর পূর্ণশক্তির একাদশ নিয়ে তারা মাঠে নামছেন। অজিদের ভয়ংকর বোলিং লাইনআপই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা।
পেস আক্রমণে অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সঙ্গে আছেন জস হ্যাজেলউড এবং মিচেল স্টার্ক। এই তিন গতি তারকা বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপের জন্য আতঙ্ক। সেইসঙ্গে আছেন ঘূর্ণি তারকা নাথান লায়ন। পরিসংখ্যান বলছে, এই চার বোলারর সম্মিলিত টেস্ট উইকেটের সংখ্যা ১ হাজার ৬১০টি! শুধু তাই নয়, এই চারজন একসঙ্গে ৩৫ টেস্ট খেলে ৫৬৭ উইকেট শিকার করেছেন, যা নাজমুল হোসেন শান্তদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ, যা দলের ব্যাটিং গভীরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অবশ্য অধিনায়ক শান্ত প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল দিয়ে সিরিজকে বিচার করতে চান না, ‘আমরা এর আগেও প্রস্তুতি ম্যাচে খারাপ করেছি। এটি আমাদের প্রস্তুতির একটি পর্যায় ছিল। আমাদের খারাপ দিন যেতেই পারে, তবে আমি মনে করি আমরা নিজেদের বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত করেছি।’
১০৫ টেস্ট খেলা মিচেল স্টার্ক নিয়েছেন ৪৩৩ উইকেট, যার মধ্যে ৫ উইকেট ১৮ বার এবং ১০ উইকেট নিয়েছেন ৩ বার। আরেক পেসার জস হ্যাজেলউড ৭৬ টেস্টে ২৯৫ উইকেট শিকার করেছেন; ১৩বার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ৭২ টেস্টে ৩১৫ উইকেট শিকার করেছেন। ৫ উইকেট ১৪বার এবং ২বার নিয়েছেন ১০ উইকেট। এ ছাড়া ১৪১ টেস্ট খেলা স্পিনার নাথান লায়ন ৫৬৭ উইকেট শিকার করেছেন। ২৪বার নিয়েছেন ৫ উইকেট আর পাঁচবার ১০ উইকেট।
এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, নাজমুলদের কী ভয়ংকর বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে। বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, নতুন বল আর বাউন্সই হতে যাচ্ছে তাদের মূল প্রতিপক্ষ, ‘এখানে বাউন্স সামলানোই আসল; তবে গত কয়েক মাস ধরে আমরা দেশের মাটিতে বাউন্সি উইকেটে প্রস্তুতি নিয়েছি। এটি আমাদের কিছুটা হলেও ধারণা দিয়েছে। এখানে বাউন্স থাকবে। আমি মনে করি নতুন বলের মোকাবিলা করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। সবাই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার চেষ্টা করবে, রান করার চেষ্টা করবে। তাদের বিশ্বমানের বোলিং আক্রমণ রয়েছে। তবে দল হিসেবে তাদের চ্যালেঞ্জ জানানোর একটি দারুণ সুযোগ এটি।’
টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইদানিং মন্দ নয়। পাকিস্তানকে দুই দুইবার হোয়াইটওয়াশ করেছে টিম টাইগার। এবারের সিরিজে দলে চোটাঘাতের সমস্যা আছে। তবে ইনজুরি কাটিয়ে ওঠা লিটন দাস দলকে স্বস্তি দিয়েছেন। এ ছাড়া ড্রপ-ইন উইকেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় থাকছেন দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে শান্ত আরও বলেন, আমরা পঞ্চম দিন পর্যন্ত লড়াই করতে চাই, সেশন ধরে ধরে এগোতে আমরা প্রস্তুত। আমরা ম্যাচটি পঞ্চম দিনে নিয়ে যেতে চাই।’






