৭৭৮৯ কোটি টাকা আয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে

ক্রিকেটের মাঠে ব্যাট-বলের লড়াই যতটা উত্তেজনাপূর্ণ, মাঠের বাইরের অর্থের খেলাও ঠিক ততটাই চমকপ্রদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ৮ হাজার ৬১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ছিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত পুরুষদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যেখান থেকে একাই এসেছে ৭ হাজার ৭৩৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ, আইসিসির এক বছরের মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে এই একক টুর্নামেন্ট থেকে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অর্থনৈতিকভাবে টুর্নামেন্টটির বিশাল গুরুত্ব বহন করে।
আয়ের দিক থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ঠিক পরেই রয়েছে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, যেখান থেকে আইসিসির আয় হয়েছে ৪৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ভারতে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপ থেকে এসেছে ৩৮২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। টুর্নামেন্ট ও ক্রিকেট ইভেন্টের বাইরে সুদ ও বিনিয়োগ থেকে সংস্থাটি পেয়েছে ৪২২ কোটি ৯৬ লাখ, অন্যান্য খাত থেকে এসেছে ১৫৫ কোটি ৫৯ লাখ এবং আর্থিক সম্পদ থেকে হয়েছে ৩৪ কোটি ৪ লাখ টাকা। ১৯৯৭ সালের ২৭ আগস্ট ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জের টরটোলায় নিবন্ধিত এবং দুবাইয়ে প্রধান কার্যালয় থাকা ১১০ সদস্যের এই সংস্থাটি বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেট পরিচালনা করে আসছে।
২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়ের প্রধান উৎস হলেও আগের বছরের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তুলনায় এ আয় কিছুটা কম ছিল। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আইসিসির মোট আয় হয়েছিল ৮ হাজার ৮৮৭ কোটি ৩৮ লাখ, যার মধ্যে শুধু টুর্নামেন্ট থেকেই এসেছিল ৮ হাজার ৪২৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে পাওয়া আয় আগের বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৬৪১ কোটি টাকা কম। তা সত্ত্বেও ২০২৫ সালের অন্য কোনো একক ক্রিকেট ইভেন্টের তুলনায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফিই ছিল সর্বোচ্চ আয়ের উৎস, যার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে সম্প্রচারস্বত্ব ও ভারতের বিশাল ক্রিকেট বাজার।
বিপুল অঙ্কের এই আয়ের বিপরীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে আইসিসির খরচও কম নয়। ২০২৫ সালে বিভিন্ন ক্রিকেট ইভেন্ট আয়োজনেই সংস্থাটির ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৪১ কোটি ২৬ লাখ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ প্রশাসনিক খাতে ব্যয় হয়েছে ৫৫৭ কোটি ৬১ লাখ এবং সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে আরও ৯১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। সব খরচ বাদ দেওয়ার পরও ২০২৫ সালে আইসিসির হাতে নিট উদ্বৃত্ত থেকেছে ৬ হাজার ৬২৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।





