অজানা গন্তব্যে অপ্রস্তুত বাংলাদেশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আগামীকাল রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ টেস্ট দল। প্রথম গন্তব্য ডারউইন। সেখানে আগস্টের ৬, ৭ ও ৮ তারিখে একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল, প্রতিপক্ষ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড সভাপতি একাদশ। এরপর আগস্টের ১৩ তারিখে শুরু হবে প্রথম টেস্ট, যা হবে ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। পরবর্তী গন্তব্য অস্ট্রেলিয়ার আরেক প্রান্ত, ব্রিসবেনের ম্যাকেই। যেখানে বাংলাদেশ খেলবে সফরের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। দুটি ম্যাচই আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, যে প্রতিযোগিতায় এই মুহূর্তে ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সবার ওপরে আর ২৮ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে চারে। দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্পষ্ট করেই বললেন, বৃষ্টির কারণে দেশে প্রস্তুতিতে রয়ে গেছে ঘাটতি আর যে দুটি ভেন্যুতে টেস্ট ম্যাচগুলো হবে, সেসব সম্পর্কে তাদের ধারণা শূন্যের কাছাকাছি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে, মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে এসে শুরুতেই গণমাধ্যমকর্মীদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন শান্ত। নির্ধারিত আসন গ্রহণের আগেই বললেন, ‘এখানে তো অনেকেই আছেন যারা অনেক দিন ধরে সাংবাদিকতা করেন, লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। আপনারা অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দলের কাছে কী চান?’ উত্তরে একজন বললেন, ‘ভালো খেলা।’ তাতে শান্তর পাল্টা প্রশ্ন, ‘এই উত্তরটা আমি দিলে কি আপনারা খুশি হতেন?’ বাস্তবতা হচ্ছে, জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্টে হার এবং চোটের কারণে লিটন দাস ও নাহিদ রানার মতো পরীক্ষিত পারফরমাদের অনুপস্থিতি এবং পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা নিতান্তই কম। তবে খেলাটি ক্রিকেট এবং মাঠের খেলায় মাঝে মাঝে অলৌকিক কিছুও তো হয়! কে ভেবেছিল, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নের শিরোপা জেতা নিউজিল্যান্ডকে মাউন্ট মঙ্গানুইতে হারিয়ে দেবে বাংলাদেশ? কিংবা ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে দেবেন শান্তরা? ২২ গজে এমন কিছু হয় বলেই শান্ত আশাবাদী হন মাইক্রোফোনের সামনে, ‘যে দলটি অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে, সেই দলের ওপর আমার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে যে, এই দলটি নিয়ে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। কোন খেলোয়াড় থাকলে ভালো হতো কোন ক্রিকেটার থাকলে আরও ভালো হতো, এগুলো নিয়ে আসলে চিন্তা করাটা এখন আমার মনে হয় না যৌক্তিক হবে। আমার মনে হয় যে, কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি আমরা এই দলটা নিয়ে এবং এই দলের ওপরে কতটুকু বিশ্বাস আমরা রাখতে পারি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ, যেটা এই দলের ওপরে আমার আছে।’ ২৩ বছর আগে টেস্ট খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ, খুব স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান দলের কোনো ক্রিকেটারেরই অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। যে দুটি ভেন্যুতে খেলা হবে, সেখানেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনিয়মিত, তাই কন্ডিশন সম্পর্কেও স্বচ্ছ ধারণা নেই, শান্ত মেনে নিলেন বাস্তবতা, ‘কন্ডিশনটা আসলে এতদূর থেকে ধারণা করাটা কঠিন। আমার মনে হয়, কন্ডিশনটা ওখানে যাওয়ার পরেই আসলে অ্যাডাপ্ট করার চেষ্টা করব। যে রকম কন্ডিশন থাকুক আমাদের মানিয়ে নিতে হবে। সত্যি বলতে ভেন্যুগুলো নিয়ে খুব একটা তথ্য আমাদের কাছে নেই, অ্যানালিস্ট কিছু তথ্য দিয়েছে, সেসব খুবই সামান্য। একটা জিনিস বলব, বৃষ্টির কারণে দেশে প্রস্তুতিটা ঠিকমতো ক্রিকেটাররা নিতে পারেনি। যতটুকু সম্ভব হয়েছে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, আপনারা দেখেছেন, প্র্যাকটিস হচ্ছে গ্রানাইটের ওপরে বোলিং মেশিনের সাহায্যে যতটুকু নেওয়া সম্ভব...তবে আমি এখনো বিশ্বাস করি, প্রস্তুতির জায়গায় একটু তো ঘাটতি ছিল।’
প্রস্তুতির ঘাটতির কথা অধিনায়ক মেনেই নিলেন, ভেন্যু এবং কন্ডিশন নিয়েও অন্ধকারে হাতড়ে ফেরা, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে দলের সেরা দুই ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি। সবশেষ ৫ ইনিংসে দুই সেঞ্চুরি ৮ ডিসমিসাল করা লিটন ও এই বছর এখন পর্যন্ত খেলা ২ টেস্টে ১১ উইকেট নেওয়া নাহিদ রানা নেই প্রথম টেস্টের দলে। ওদিকে অস্ট্রেলিয়া দলে প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ড, ক্যামেরন গ্রিন...সবাই আছেন। তাদের বিপক্ষে ভালো করার জন্য দরকার ছিল সেরা দল আর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি। কিন্তু সবই হলো উল্টো।




