বোলিংয়ের আগে প্রতিদিন যে কষ্ট সইতে হয় স্টার্ককে

বয়স ৩৬ পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। তবু বাইশ গজে বল হাতে নিয়মিত গতির ঝড় তোলেন মিচেল স্টার্ক। বিশ্বের তামাম ব্যাটারদের ত্রাস হয়ে ওঠা এই গতিতারকার সাফল্যের পেছনে আছে কঠোর পরিশ্রম ও শারীরিক যন্ত্রণা সয়ে যাওয়ার এক অজানা গল্প। ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে চ্যানেল সেভেনের সাথে আলাপকালে নিজের পায়ের দীর্ঘ ও জটিল ট্যাপিংয়ের অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন এই অভিজ্ঞ অজি পেসার।
মাঠে নামলে স্টার্কের ডান পা সবসময় ক্রিসমাসের উপহারের মতো নিখুঁতভাবে টেপ দিয়ে মোড়ানো থাকে। অ্যাঙ্কেল থেকে শুরু করে চারপাশের ছোট আঙুলগুলোতেও পরিপাটি করে টেপ পেঁচানো থাকে। চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যকার ও সাবেক বোলার ট্রেন্ট কোপল্যান্ডের সাথে আলাপকালে স্টার্ক জানান, তিনি যখনই বোলিং করেন, তখনই তাকে এই ক্লান্তিকর প্রক্রিয়াটি পার করতে হয়। অতীতে গোঁড়ালিতে একাধিক সার্জারি করানোর অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এই সতর্কতা অবলম্বন করেন। নিজের বোলিং অ্যাকশন ও শারীরিক চাপ প্রসঙ্গে স্টার্ক বলেন, ‘কথায় বলে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। আমার গোঁড়ালিতে বেশ কয়েকটি সার্জারি হয়েছে... এবং আমি আমার পায়ের আঙুলের ত্বক রক্ষার চেষ্টা করি। হ্যাঁ, এ কারণেই ওই গোড়ালিতে নিয়মিত টেপ প্যাঁচাতে হয়।’ স্টার্ক আরও জানান যে তিনি মূলত ‘হিল স্ট্রাইক’ (পায়ের গোড়ালি প্রথমে মাটিতে ফেলা) ঘরানার বোলার এবং এই টেপিং তাকে পায়ের পেছনের অংশের চাপ সামলাতে সাহায্য করে।
ধারাভাষ্যকার ট্রেন্ট কোপল্যান্ড জানান, স্টার্ক যখন বল করতে যান, তখন তার সামনের পায়ে শরীরের ওজনের ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি চাপ পড়ে। স্টার্কের ওজন প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কেজি! তাই এই ইনজুরি ম্যানেজম্যান্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত টেস্ট খেলে যাওয়া এবং প্রথম থেকে শেষ বল পর্যন্ত ১৪০ কিমি গতির বেশি গতি ধরে রাখার পেছনে এই শারীরিক প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বড় ভূমিকা রাখে। কোপল্যান্ড আরও জানান, ক্যামেরার সামনে আসার আগে স্টার্ক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি জুতো পরে আসবেন কি না। কোপল্যান্ডের ভাষায়, ‘আমি তাকে বলেছি- “আমি দুঃখিত, কারণ এটা দেখতে ভালো লাগবে না।” তখন স্টার্ক বলেছে- “তুমি কি চাও আমি পা ঢেকে রাখি?” এই লোকটির জন্য এটি প্রতিদিনের রুটিন। সে যখনই বল করে, এমনকি নেটেও... চিন্তা করুন হাজার হাজার বার এমন ঘটনা ঘটে চলেছে!’
ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্টার্ক বলেন, ‘আমরা প্রথম ইনিংসে কিছুটা পিছিয়ে আছি। তবে উইকেটের অবস্থা ক্রমেই ভালো হচ্ছে। তাদের (বাংলাদেশের) বোলিং আক্রমণ নিয়ে আমাদের ব্যাটারদেরও কিছুটা ধারণা হয়েছে। খেলার এখনও অনেক বাকি। স্পষ্টতই আমাদের ওদের দশটি উইকেট নিতে হবে এবং আমি মনে করি আমরা বেশ ভালোই বোলিং করেছি।’








