‘সূর্যবংশী জাতীয় দলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত’

সংগৃহীত ছবি
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের কাছে হেরে রাজস্থান রয়্যালসের আইপিএল মিশনের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে রাজস্থানের বিদায়ের পরও ক্রিকেট মহলে আলোচনা জুড়ে শুধুই ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচেও চাপের মুখে আরও একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন এই কিশোর। ম্যাচ শেষে রাজস্থান রয়্যালসের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট ও প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সূর্যবংশী এখন ভারতের জাতীয় দলের হয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।
চলতি মৌসুমে ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে ১টি সেঞ্চুরি ও ৫টি হাফ সেঞ্চুরিসহ মোট ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেছেন সূর্যবংশী, যা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গল্প হয়ে থাকবে।
গতকাল শুক্রবার মুল্লানপুর স্টেডিয়ামের অসম বাউন্সের কঠিন উইকেটে যখন অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছিল, তখন একাই লড়াই চালিয়ে যান সূর্যবংশী। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে এলিমিনেটরে ২৯ বলে ৯৭ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলার মাত্র দুদিন পরই, এই ম্যাচে গুজরাটের বিপক্ষে ৪৭ বলে ৯৬ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক সাঙ্গাকারা সূর্যবংশীর এই ম্যাচ রিডিংয়ের ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেছেন, 'আজ (গতকাল) ও অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়ে যাওয়ায় ইনিংসটি অনেক বেশি কঠিন ছিল। কিন্তু ও মাথা ঠান্ডা রেখে আমাদের একটি লড়াই করার মতো পুঁজিতে পৌঁছে দিয়েছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ও প্রচণ্ড পরিপক্ব, পরিস্থিতি খুব ভালো বোঝে এবং ওর মনে কোনো ভয় নেই।'
বাঘা বাঘা সব বিশ্বমানের বোলারদের যেভাবে সূর্যবংশী শাসন করেছেন, তাতে তিনি ভারতীয় দলে খেলার জন্য প্রস্তুত কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সাঙ্গাকারা কোনো দ্বিধা না রেখেই বলেছেন, 'আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলা পর্যন্ত কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না যে কে কতটা প্রস্তুত। তবে বৈভব বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে যা দেখিয়েছে, আমার মনে হয় ওর সামনে যেকোনো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হোক না কেন, ও তা মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আমি নিশ্চিত, খুব দ্রুতই ও জাতীয় দলে ডাক পেতে যাচ্ছে।'
সাঙ্গাকারা আরও যোগ করেন, পুরো মৌসুম জুড়ে ওপেনিং পজিশনে এই কিশোর যেভাবে দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। অমিত সম্ভাবনাময় এই প্রতিভাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আলোচনা এবং অন্যান্য বিভ্রান্তি থেকে দূরে রাখতে সতর্ক রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষ। সাঙ্গাকারা জানালেন, অফ-সিজনে সূর্যবংশীর ফিটনেস, স্কিল ও ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্য একটি বিশেষ এবং কাস্টমাইজড পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
তরুণ এই ব্যাটারকে নিয়ে সাঙ্গাকারা আরও বলেছেন, 'আমরা ওর মাথায় অতিরিক্ত কোনো চিন্তা ঢোকাতে চাই না। আমরা ওর ক্রিকেটটাকে সহজ রাখতে চাই। একটি পরিষ্কার মন এবং নির্ভীকভাবে ব্যাটিং করার এই সাহস— এটাই আমরা ওর মধ্যে দেখতে চাই। অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে কাউকে ভারাক্রান্ত করা কখনোই ভালো ফল আনে না।'







