টি-টোয়েন্টি
এক বছরে ৪০০ ছক্কার রেকর্ড গড়ল ভারত

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার নতুন এক মাইলফলক গড়েছে ভারত। ২০২২ সালে ৪০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটাররা ২৮৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল। আর চলতি বছর সমসংখ্যক ম্যাচে ছক্কার সংখ্যা পৌঁছেছে চারশতে! ছক্কা মারার হার বেড়েছে ৩৮.৪ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে জেতা টি-টোয়েন্টি সিরিজেই তৈরি হয়েছে এই নতুন রেকর্ডের।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৪০০ ছক্কা মারার প্রথম কীর্তি গড়েছে ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে নমন ধীরের ব্যাট থেকে আসে এই ঐতিহাসিক ৪০০তম ছক্কাটি। পুরো সিরিজে কিউইরা যেখানে মাত্র ৬১টি ছক্কা মারতে পেরেছে, সেখানে ভারতের ব্যাটাররা মেরেছে ১৪২টি ছক্কা। স্রেফ ছক্কা থেকেই সিরিজে ভারত করেছে ৮৫২ রান! ভারতের এই তাণ্ডবের মূলে ছিল দলের শীর্ষ তিন ব্যাটার। চলতি পঞ্জিকাবর্ষে একাই ৮৬টি ছক্কা মেরে শীর্ষে রয়েছেন তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা। তার পরেই রয়েছেন ইশান কিষাণ (৬০টি) এবং সঞ্জু স্যামসন (৫০টি)। শুধু পাওয়ারপ্লেতে বা প্রথম ৬ ওভারেই ১৪৫টি ছক্কা মেরেছে ভারত। এই ৪০ ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে তাদের গড়ে রান উঠেছে ১১.২১ করে, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রীতিমতো এক বিপ্লব এনে দিয়েছে।
বিশ্বখ্যাত পাওয়ার-হিটিং কোচ জুলিয়ান উডের মতে, ভারত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে। ঝুঁকি সামলে খেলার মানসিকতা ছেড়ে তারা শট খেলার দক্ষতাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। বিশাল প্লেয়ার পুলের কারণে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আধুনিক বিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছে দলটি। উড আরও জানান, এখন বোলারদের ভুল করার কোনো সুযোগ নেই; কারণ ইয়র্কার ছাড়া প্রতিটি লেন্থ বলকেই ছক্কায় পরিণত করার সামর্থ্য অর্জন করেছে নতুন প্রজন্মের ব্যাটাররা। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ব্যাটিং কোচ হরিশ জয়কুমার একই সুর মিলিয়ে জানান যে, শুধু উইকেটের সহজলভ্যতা নয়, বরং ভারতীয় ব্যাটারদের মানসিকতার বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন সম্পূর্ণ ভয়হীন ক্রিকেট খেলছে। ফিনিশারদের ওপরে নির্ভর না করে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হওয়ার এই আগ্রাসী কৌশলই ভারতকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাকি সব দলের চেয়ে বহুদূর এগিয়ে রেখেছে।





