সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে জয় ছিল একটিই। মঙ্গলবার সাফল্যের মুকুটে আরেকটি পালক যুক্ত হয়েছে। সেই তালিকায় আজ আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় লেখার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিতলেই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়বে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ম্যাচে সব বিভাগেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল নিখুঁত। ব্যাট হাতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পারফরমারদের দায়িত্বশীলতা, মাঝের ওভারে ধৈর্য, শেষ দিকে রান তোলায় গতি— সব মিলিয়ে গড়া হয়েছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ। এরপর বল হাতে পেসারদের আগ্রাসনে অস্ট্রেলিয়া কখনোই ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
দুই দলের দ্বৈরথে প্রথমবার মনে হলো ক্রিকেটে একসময়ের রাজারা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। অবশ্য অজিদের দলে তাকালে তাদের সুসময়ের সেই দাপট যে নেই, তা স্পষ্ট। তবুও সেই দায় তো বাংলাদেশের নয়। হোম সিরিজে আসার আগে বাংলাদেশ তো আর বলে দেয়নি যে দ্বিতীয় সারির বা তরুণ দল নিয়ে এসো!
অস্ট্রেলিয়া নিজেরাই দল সাজিয়েছে। অভিজ্ঞদের বিশ্রাম দিয়েছে। এখন নিজেরাই পড়েছে খাদের কিনারায়। বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজে টিকে থাকতে হলে দ্বিতীয় ম্যাচ জশ ইংলিসদের জন্য অলিখিত ফাইনাল।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, জয়ের পেছনে কোনো একজনের একক নৈপুণ্য নয়, অবদান ছিল প্রায় পুরো দলের। শুরুতে তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ইনিংস দুটি জয়ের ভিত গড়ে দেয়। মাঝের ওভারে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে মোসাদ্দেক হোসেন দেখিয়েছেন নিজের গুরুত্ব। অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসের সঙ্গে বল হাতেও দুটি উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচের নায়ক। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত নাম নিঃসন্দেহে নাহিদ রানা। বোর্ডে যতই রান জমা হোক, বোলিং ভালো না হলে ব্যাটারদের চেষ্টা স্রেফ পণ্ডশ্রম। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানরা তা হতে দেননি। ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশ পেসারদের নতুন দিনের ঝাঁজ বুঝেছে পেসের দেশের ব্যাটাররা।
তাসকিনের করা ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথিউ শর্টের উইকেট উড়ে যায়। এক ওভার পর ফিজের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন অজিদের এই দলের সেরা ব্যাটার মার্নাস লাবুশেন। দুই ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কোমর ভেঙে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া আর জয়ের পথে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
এরপর আসে রানার গতি। ধারাবাহিক শর্ট অব লেন্থ বোলিং এবং ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের কাছাকাছি ডেলিভারি— সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক কঠিন পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ যে নতুন এক মাত্রা পেয়েছে, প্রথম ওয়ানডে যেন তারই আরেকটি প্রমাণ।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য অবশ্য হতাশার কারণ শুধু ব্যাটিং ব্যর্থতা নয়। ফিল্ডিংয়ে একের পর এক ভুল তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। মোসাদ্দেককে তিনবার জীবন দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ ফসকানো এবং মাঠে সমন্বয়ের অভাব— সব মিলিয়ে নিজেদের মানদণ্ডের অনেক নিচে ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সফল দলটি। তাই হারও জুটেছে বাজেভাবে।
তবু অস্ট্রেলিয়া তো অস্ট্রেলিয়া-ই। যেকোনো পরিস্থিতি সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর অভ্যাস দেশটির ক্রিকেটারদের পুরনো। প্রথম ম্যাচে পরাজিত হলেও তাদের দলে অভিজ্ঞতার ঘাটতি নেই। ক্যামেরন গ্রিনের অর্ধশতক প্রমাণ করেছে, ব্যাটিং ইউনিট ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখে। অ্যালেক্স ক্যারিও ম্যাচ শেষে বলেছেন, একটি খারাপ দিন পুরো সিরিজের চিত্র বদলে দেয় না।




