সমালোচনায় সাবেকরা
সূর্যবংশীকে নিয়ে বিপাকে গৌতম গম্ভীর

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চোটপ্রাপ্ত ঈশান কিশানের জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন ভারতের তরুণ ব্যাটিং বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। তবে ওপেনিং ছেড়ে তিন নম্বরে নেমে ৮ বলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। অচেনা পজিশনে বৈভবের এই ব্যর্থতার পর ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্টের কঠোর সমালোচনায় মেতেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ষষ্ঠ ওভারে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসেন বৈভব। নতুন পজিশনে ১৫ বছর বয়সী এই তরুণকে দেখে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল সাবেক অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচ দেখে বৈভবের মতো তরুণ ক্রিকেটারের মূল্যায়ন করা ভুল হবে। তবে ওপেনিং বাদ দিয়ে ছয় ওভারের মাথায় তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা মোটেও তার কাজ নয়। বলগুলো ব্যাটে ঠিকমতো লাগছিল না। ওই সময় উইকেটে থাকা অন্য সিনিয়র ব্যাটারের উচিত ছিল বৈভবের কাছে গিয়ে তাকে শান্ত করা এবং সময় নিয়ে খেলার পরামর্শ দেওয়া।’ গৌতম গম্ভীরের টিম ম্যানেজমেন্টকে পরামর্শ দিয়ে অশ্বিন আরও বলেন, ‘যদি অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন ও বৈভব সূর্যবংশী—এই তিনজনকে একসঙ্গেই একাদশে খেলাতে হয়, তবে সঞ্জু স্যামসনকেই তিন নম্বরে নামিয়ে দেওয়া উচিত। এশিয়ান গেমসেও সঞ্জু তিনে খেলেছেন। বৈভবকে তিনে নামানোটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।”
অশ্বিনের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন আরেক সাবেক স্পিনার মুরালি কার্তিক। তিনি বলেন, ‘বৈভব সূর্যবংশী ওপেনার হিসেবেই সেরা পারফর্ম করে। সে খুব কম বয়সী এবং এভাবে খেলেই অভ্যস্থ। এই জায়গাটিতেই দলের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেওয়া উচিত ছিল। সঞ্জু স্যামসন যেকোনো পজিশনে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তরুণ বৈভবকে তিনে না নামিয়ে সঞ্জু স্যামসনকে পাঠানো উচিত ছিল। আর বৈভবকে খেলতে হতো ওপেনিংয়ে।’ কার্তিক আরও যোগ করেন যে, যদি টিম ম্যানেজমেন্ট মিডল অর্ডারের জন্যই কাউকে খেলাতে চাইত, তবে বৈভবের বদলে শিভম দুবেকে একাদশে রাখা বেশি যুক্তিযুক্ত হতো। বৈভবের পজিশন নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ভারতের মিডল অর্ডার ও লোয়ার-মিডল অর্ডারের প্রশংসা করেছেন অশ্বিন। তিলক বর্মা, নীতিশ কুমার রেড্ডি এবং রমনদীপ সিংয়ের দুর্দান্ত লড়াইয়ে জয় পায় ভারত। রমনদীপ ও তিলকের ম্যাচ জেতানো মানসিকতা এবং স্যান্টনারের মতো বিশ্বমানের স্পিনারদের অনায়াসে বাউন্ডারির ওপারে পাঠানোর ক্ষমতার প্রশংসা করে অশ্বিন মন্তব্য করেন যে, ভারতের মিডল অর্ডার দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।





