কোহলির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ট্রাভিস হেডের স্ত্রীকে ভারতীয়দের আক্রমণ

সংগৃহীত ছবি
আইপিএলের প্লে-অফের টিকিট আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচটি ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার। কিন্তু বিরাট কোহলি ও ট্রাভিস হেডের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ ম্যাচটিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল। হেডের সঙ্গে কোহলির করমর্দন না করার ঘটনা মাঠেই শেষ হয়ে যায়নি, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় সমর্থকদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন হেডের স্ত্রী জেসিকা।
ক্রিকেটারদের মাঠের পারফরম্যান্স বা আচরণের জন্য তাদের জীবনসঙ্গীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে রোহিত শর্মার দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিলেন ট্রাভিস হেড। সেবারও জেসিকাকে তীব্র কটূক্তির শিকার হতে হয়েছিল। ২০২৬ আইপিএলে কোহলি-হেড কাণ্ডের পর আবারও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম ‘দ্য অ্যাডভারটাইজার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেসিকা বলেন, ‘মনে হচ্ছে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর যে ধরনের গালিগালাজ আর হেনস্তা করা হয়েছিল, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো ট্রোল আর নোংরা মন্তব্যে ভরে গেছে...। আমরা নিজেরা ঠিক আছি, কিন্তু এবার তারা আমার বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারকেও আক্রমণ করছে।’
খেলাধুলায় মানসিক স্বাস্থ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে জেসিকা আরও যোগ করেন, ‘খেলাধুলায় আবেগ থাকবেই, কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদেরও একটা পরিবার আছে, তাঁরাও রক্ত-মাংসের মানুষ। আশা করি এই ঘটনা মানুষকে একে অপরের প্রতি আরও সদয় হতে শেখাবে।"
গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ আগে ব্যাটিং করে ২৫৫ রান তুলেছিল। সেই রান তাড়ায় নেমে তৃতীয় ওভারে হেডের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় কোহলির। হেডের কোনো একটি মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে কোহলি তাকে বলেন, ‘ঠিক আছে, এবার এসে কয়েকটা বল কর।’ এর কয়েক বল পরই কোহলি আউট হয়ে গেলে হেড পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘আমি বোলিংয়ে আসার আগেই তুমি আউট হয়ে গেলে!’
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে হেরে যায় কোহলির বেঙ্গালুরু। খেলা শেষেও রাগ কমেনি কোহলির। দুই দলের খেলোয়াড়েরা ম্যাচ শেষে যখন একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন, তখন হেড হাত বাড়িয়ে দিলেও কোহলি তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যান। অবশ্য সানরাইজার্সের বাকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই হাত মেলান কোহলি। সেই ঘটনা নিয়ে ট্রাভিস হেডের পরিবারকেও ছাড়ছেন না ভারতীয়রা।








